কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের অনুপ্রবেশ সমস্যা শুধু সীমান্তের একটা ছোট বিষয় নয়। (Dilip Ghosh)আজ সরকারি মহল থেকেই তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। নতুন সরকারের আমলে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি চালু হওয়ার পর যখন প্রতিদিন কয়েক হাজার অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন। এই আবহেই দিলীপ ঘোষ স্বীকার করেছেন যে এই সংখ্যা মোটেও যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেছেন সমস্যার গভীরতা বুঝতে হলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রতিদিন ফেরত পাঠানোর মতো বিশাল অভিযান চালাতে হবে, কারণ রাজ্যে কোটি কোটি অনুপ্রবেশকারী সরকারি প্রকল্প ও সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ দিলীপের।সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র থেকে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে চিত্রটা আরও স্পষ্ট।
আরও দেখুনঃ ১৭ বছর পাক গুপ্তচরবৃত্তি! অবশেষে এন্টালি থেকে গ্রেফতার পাক হ্যান্ডলার রিজভি
একদিকে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় ফিরে যাচ্ছেন বলা হচ্ছে, অন্যদিকে কর্তারা বলছেন, এই হারে সমস্যা মিটবে না। রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের দাবি এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। হোল্ডিং সেন্টার তৈরি, বিএসএফের হাতে সরাসরি হস্তান্তর এবং ভুয়া নথি মুছে ফেলার অভিযান চলছে জোরকদমে। কিন্তু যাঁরা মাঠে কাজ করছেন, তাঁরা বলছেন, “এটা শুধু শুরু। আসল সংখ্যাটা অনেক বড়।”
সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ইস্যু নিয়ে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। অনেকে অভিযোগ করেন, ভুয়া আধার, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড তৈরি করে লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, যুবশ্রীসহ নানা সরকারি সুবিধা ভোগ করেছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা। রাজ্য প্রশাসনের একটি অংশ স্বীকার করেছে যে এই অনুপ্রবেশকারীরা কেবল জনসংখ্যার চাপ বাড়ায়নি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্যও নষ্ট করেছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতির অধীনে পুলিশ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ধরছে এবং বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। তবে কর্তারা মনে করেন, শুধু স্বেচ্ছায় ফেরত যাওয়ার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বড় আকারের চিহ্নিতকরণ অভিযান, নথি যাচাই এবং সমন্বিত অ্যাকশন দরকার। কেন্দ্রীয় স্তরেও ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ নিয়ে হাই লেভেল কমিটি গঠন হয়েছে, যা পুরো দেশের ছবি তুলে ধরবে।




















