নয়াদিল্লি: আসন্ন খরিফ (Kharif Season) মরশুমে দেশের কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত বীজ মজুত রয়েছে ৷ পাসাপাশি ‘এল নিনো’র সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানালেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan)।
শুক্রবার দিল্লির ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্স কমপ্লেক্সে আয়োজিত জাতীয় কৃষি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, খরিফ মরশুমের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে দেশের কৃষি বিভাগের পুরো টিম একত্রিত হয়েছে।
প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বীজ মজুত
কৃষিমন্ত্রী জানান, খরিফ মরশুমের জন্য দেশে ১৭৩ লক্ষ কুইন্টাল বীজের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ১৯২ লক্ষ কুইন্টাল বীজ মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের ১৭৩ লক্ষ কুইন্টাল বীজ দরকার, কিন্তু বর্তমানে ১৯২ লক্ষ কুইন্টাল বীজ উপলব্ধ রয়েছে। অর্থাৎ ১১ শতাংশেরও বেশি অতিরিক্ত বীজ রয়েছে।”
রাজ্যগুলিকে প্রয়োজন অনুযায়ী বীজ সংগ্রহ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি
শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, কোনও বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বীজের প্রয়োজন হলে তার জন্যও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, “আমরা এই বিষয়টি মাথায় রেখে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার কুইন্টাল অতিরিক্ত বীজ প্রস্তুত রেখেছি। ফলে ভবিষ্যতে বীজের অভাব হবে না।”
কৃষিমন্ত্রীর মতে, এল নিনোর মতো আবহাওয়াজনিত সমস্যার সম্ভাবনাও মাথায় রেখে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কৃষক আইডি তৈরিতে জোর
কৃষকদের জন্য তৈরি করা ‘ফার্মার আইডি’ নিয়েও এদিন কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই ৯.৭৬ লক্ষ কৃষক আইডি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এই আইডির মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন প্রকল্পে আলাদা আলাদা নথি জমা দিতে হবে না। একই তথ্যের ভিত্তিতে সার ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে।
পূর্ব ভারতে কম কৃষিঋণ নিয়ে উদ্বেগ
দেশে কৃষিঋণের গড় পরিমাণ ১.৩২ লক্ষ টাকা হলেও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তা মাত্র ৬৩ হাজার টাকা বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পূর্ব ভারতের কৃষকদের আরও বেশি ঋণ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে তাঁরা উন্নত চাষ করতে পারেন।
ভাগচাষিদের জন্য নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত
যেসব কৃষকের নিজের জমি নেই এবং লিজে জমি নিয়ে চাষ করেন, তাঁদের জন্যও আলাদা প্রকল্প ও পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হবে বলে জানান শিবরাজ সিং চৌহান।
ফসল বিমায় দেরি হলে ১২% সুদ
প্রধানমন্ত্রী কৃষি বিমা যোজনা (Pradhan Mantri Fasal Bima Yojana) নিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় রাজ্য সরকার প্রিমিয়াম জমা দিতে দেরি করায় কৃষকেরা সমস্যায় পড়েন।
এই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ২১ দিনের বেশি দেরি হলে কৃষকদের ১২ শতাংশ সুদ দিতে হবে।
নকল কীটনাশকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
নকল কীটনাশককে বড় সমস্যা বলে উল্লেখ করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষাগারগুলির NABL স্বীকৃতির বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে।
১ জুন থেকে ‘খেত বাঁচাও’ অভিযান
১ জুন থেকে এক মাসের জন্য ‘খেত বাঁচাও’ অভিযান শুরু হবে বলেও জানান তিনি। এই কর্মসূচিতে মাটির স্বাস্থ্য কার্ড অনুযায়ী সারের ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক চাষে জোর দেওয়া হবে।
কৃষিমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ লক্ষ হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক কৃষিকাজ হচ্ছে এবং ৮ লক্ষের বেশি কৃষক ইতিমধ্যেই নাম নথিভুক্ত করেছেন।




















