‘সরকারের উচিত রাষ্ট্রীয় ভাবে হিন্দু মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া!’ মত বাংলাদেশি মৌলবাদীর

ঢাকা: ঈদের নামাজের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো হিন্দু মন্দির ভাঙার উন্মুক্ত হুমকি দিয়েছে (Hindu Temple)। একজন প্রভাবশালী মৌলবাদী নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, “সরকারের উচিত রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দু ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh-hindu-temple-demolition-remarks

ঢাকা: ঈদের নামাজের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো হিন্দু মন্দির ভাঙার উন্মুক্ত হুমকি দিয়েছে (Hindu Temple)। একজন প্রভাবশালী মৌলবাদী নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, “সরকারের উচিত রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দু মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া!” শুধু তাই নয়, নতুন মন্দির নির্মাণ বা প্রতিমা স্থাপনকে বাংলাদেশের মাটিতে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় দেশের হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অনেকে বলছেন, এই হুমকি শুধু কথার কথা নয়, বাস্তবে পরিণত হলে তাঁদের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।সম্প্রতি ঈদুল আজহার পর বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় সমাবেশ থেকে এমন বক্তব্য উঠে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও পোস্টারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে হিন্দু মন্দিরগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে, নতুন করে কোনো মন্দির বা প্রতিমা তৈরি করা চলবে না। একাধিক উগ্র গোষ্ঠী এই দাবিতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে এবং ‘নিজেদের হাতে’ বিষয়টি তুলে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

   

আরও দেখুনঃ হাজার নয় পুশব্যাকের সংখ্যা লক্ষে বাড়ানোর আর্জি দিলীপের

বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুরা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে। ২০২৪ সালের পর থেকে হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে দিপু দাস সহ অন্যান্য হিন্দুদের উপর নৃশংস অত্যাচারের খবর বিচলিত করেছে বিশ্বকে। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, নারীদের উপর অত্যাচার এসব ঘটনা বারবার ঘটছে। এবারের ঈদ-পরবর্তী হুমকি সেই আতঙ্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, এটা শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকেই চ্যালেঞ্জ করছে।

আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে এই উগ্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। “ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কোনো গোষ্ঠী যদি অন্য ধর্মের উপাসনালয় ভাঙার হুমকি দেয়, তাহলে তা গণতন্ত্র ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ,” বলছেন একজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মহলও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google