কলকাতা: বামপন্থী আদর্শে গড়ে ওঠা পরিবারে জন্ম, (Purbasthali)কিন্তু রাজনৈতিক যাত্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে এই বৈপরীত্যই যেন পূর্বস্থলী উত্তরের পদ্ম-প্রার্থীর পরিচয়কে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামা এই নেতার জীবনকাহিনি এখন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার বিষয়।
ছোটবেলা থেকেই তিনি এমন এক পরিবারে বড় হয়েছেন, যেখানে সিপিএমের আদর্শ ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাঁর বাবা এবং কাকারা সক্রিয়ভাবে সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি তাঁর বড় কাকা দলীয় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল বাম ঘেঁষা। কিন্তু সেই পরিবেশের মধ্যেই ধীরে ধীরে নিজের আলাদা চিন্তাভাবনা গড়ে তোলেন তিনি।
আরও দেখুনঃ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আজ দ্বিতীয় হোম ম্যাচ ইন্টার কাশীর
খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত হন। পরিবার এবং আশপাশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও নিজের আদর্শে অবিচল ছিলেন। বিশেষ করে যখন পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের শক্তিশালী শাসন চলছিল, সেই সময়েও তিনি নিজের মতাদর্শগত কাজ চালিয়ে গিয়েছেন নির্ভয়ে।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি, এরপর ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ এইভাবেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলা এগিয়েছে। তিনি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি)-র রাজ্য সহ-সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাঁর সংগঠনগত দক্ষতার প্রমাণ দেয়। পেশাগত জীবনে তিনি একজন শিক্ষক। শিক্ষা ও সংগঠন এই দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সমান দখল রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। তাঁর সহকর্মী ও সমর্থকদের মতে, তিনি একজন আদর্শবাদী এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ সংগঠক, যিনি নীরবে কাজ করে যেতে বিশ্বাস করেন।
রাজনৈতিক সংগঠনে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি কাটোয়া সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন এবং তৃণমূল স্তরে দলের ভিত শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে ওই অঞ্চলে বিজেপির সংগঠন অনেকটাই মজবুত হয়েছে বলে দলের অন্দরেই স্বীকৃতি রয়েছে।
এবার সেই অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনগত দক্ষতাকে পুঁজি করেই তিনি নির্বাচনী ময়দানে। পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রটি ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সেখানে তাঁকে প্রার্থী করা বিজেপির কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে বামপন্থী পরিবার থেকে উঠে আসা তাঁর অতীত, অন্যদিকে বর্তমান বিজেপি পরিচয় এই দ্বৈত পরিচয়ই ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর এই ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক যাত্রা ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।




















