‘বাংলায় কাবা নয় কালীঘাটের সংস্কৃতি!’ ফের বিস্ফোরক যোগী

কলকাতা: নির্বাচনী আবহে আবারও উত্তাপ ছড়াল বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে। (Yogi Adityanath)এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের একটি মন্তব্য, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক…

yogi-adityanath-bengal-culture-kalighat-kaaba-controversy

কলকাতা: নির্বাচনী আবহে আবারও উত্তাপ ছড়াল বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে। (Yogi Adityanath)এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের একটি মন্তব্য, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যে এক নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি কাবার সঙ্গে নয়, কালীবাড়ির সঙ্গে যুক্ত।” এই মন্তব্য সামনে আসতেই তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

যোগীর এই বক্তব্যকে ঘিরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছে। তাঁদের দাবি, এটি শুধুমাত্র একটি মন্তব্য নয়, বরং সচেতনভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি করার চেষ্টা। তৃণমূলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে ভোটের সমীকরণ বদলাতে বিজেপি বারবার ধর্মের ইস্যু সামনে আনছে। তাঁদের মতে, বাংলার সংস্কৃতি বহুত্ববাদী এবং এখানে সব ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের সহাবস্থানই প্রকৃত পরিচয়।

   

আরও দেখুনঃ শ্রীজাতর গ্রেফতারির জল্পনায় জল ঢালল কমিশন

অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। দলের নেতারা বলছেন, যোগী আদিত্যনাথ বাংলার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়ের কথাই তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, বাংলার ইতিহাসে কালীপুজো, দুর্গাপুজো বা বিভিন্ন হিন্দু উৎসবের গভীর প্রভাব রয়েছে, এবং সেই বাস্তবতাকেই তিনি তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি তাঁরা তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘তোষণ নীতি’র অভিযোগও ফের তুলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্য আসলে নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ। বিশেষ করে এমন সময় যখন ভোটের লড়াই ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে, তখন ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। তাঁদের মতে, হিন্দু ভোটারদের একত্রিত করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকে, যা নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এই বিতর্ক শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের এমন মন্তব্য সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। আবার অন্য একাংশের মত, নির্বাচনের সময় এ ধরনের বক্তব্য প্রায়শই শোনা যায় এবং ভোট শেষ হলেই তা গুরুত্ব হারায়।