পাশ হল না মহিলা সংরক্ষণ বিল! উত্তপ্ত পরিবেশ সংসদে

নয়াদিল্লি: সংসদ চত্বরে উত্তপ্ত পরিবেশ। এনডিএ জোটের নেতারা লোকসভায় সংবিধান (Women Reservation) বিল, ২০২৬ পাস না হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিলটি নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ…

women-reservation-bill-not-passed-lok-sabha-india

নয়াদিল্লি: সংসদ চত্বরে উত্তপ্ত পরিবেশ। এনডিএ জোটের নেতারা লোকসভায় সংবিধান (Women Reservation) বিল, ২০২৬ পাস না হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিলটি নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের সঙ্গে ডেলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে যুক্ত করার প্রস্তাব করেছিল। ভোটাভুটিতে বিলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে এনডিএ নেতারা সংসদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ দেখান এবং সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

লোকসভায় দুই দিনব্যাপী ম্যারাথন বিতর্কের পর ভোটাভুটি হয়। সরকারি সূত্র অনুসারে, ২৯৮ জন সদস্য বিলের পক্ষে ভোট দেন, আর ২৩০ জন বিপক্ষে। সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি পাশ হয়নি। এনডিএ নেতারা এটিকে ‘গণতন্ত্রের পরাজয়’ বলে অভিহিত করেন। তাঁরা সংসদ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ‘নারী শক্তি বন্দন’ বিল পাসের দাবিতে স্লোগান দেন। কয়েকজন নেতা মাইক হাতে নিয়ে বলেন, “নারীদের অধিকার আটকে রাখা যাবে না।

Advertisements

আরও দেখুনঃ “সাহায্য করুন, জিতে বিজেপিতে যাব”, সংঘকে প্রস্তাব তৃণমূল প্রার্থীর!

বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে এই ঐতিহাসিক বিল আটকাচ্ছে।”বিলটির মূল উদ্দেশ্য ছিল লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা। সঙ্গে ডেলিমিটেশন প্রক্রিয়া শুরু করে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্নির্ধারণ। সরকারের দাবি ছিল, এতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্বও বাড়বে। কিন্তু বিরোধী দলগুলো (ইন্ডিয়া জোট) এটিকে ‘দক্ষিণ বিরোধী’ ও ‘ফেডারেল কাঠামোর ওপর আক্রমণ’ বলে আখ্যা দেয়।

তারা দাবি করে, ২০১১ সালের সেন্সাসের ভিত্তিতে ডেলিমিটেশন করলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর আসন বাড়বে এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমবে।এনডিএ নেতারা প্রতিবাদে বলেন, বিরোধীরা নারীদের ক্ষমতায়নের পথে বাধা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন, বিরোধী জোট ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণের দাবি তুলে বিলটিকে জটিল করে তুলেছে। একজন এনডিএ নেতা বলেন, “নারীদের জন্য সংরক্ষণ দেওয়ার সময় এসেছে।

বিরোধীরা শুধু রাজনৈতিক ফায়দা দেখছে।” প্রতিবাদ চলাকালীন সংসদ প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই প্রতিবাদকে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি ও অন্যান্য দলের নেতারা বলেন, সরকার বিলটি তাড়াহুড়ো করে আনতে চেয়েছিল। তারা দাবি করে, ডেলিমিটেশন ছাড়া নারী সংরক্ষণ বিল পাস করা উচিত ছিল। ডিএমকে নেতারা কালো পোশাক পরে প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, এই বিল দক্ষিণ ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে।