মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়নি! আগামীকালই বিশেষ বৈঠকের ডাক মোদীর

modi-cabinet-meeting-women-reservation-bill-failure

নয়াদিল্লি: নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনী বিল (Modi Cabinet Meeting) লোকসভায় পরাজিত হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি অস্বাভাবিক বৈঠক ডাকা হয়েছে। আগামীকাল সকাল ১১:৩০ টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত মন্ত্রিসভার বৈঠক নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসারে হয়, কিন্তু এবারের বৈঠকের সময় ও তাৎক্ষণিকতা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।

গতকাল লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল এবং তার সঙ্গে যুক্ত ডেলিমিটেশন বিল পাসের জন্য ভোটাভুটি হয়। বিলটি ২৯৮ ভোটে সমর্থন পেলেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (প্রায় ৩৬০ ভোট) পায়নি। ফলে বিলটি পরাজিত হয়। এর সঙ্গে লোকসভার আসন বৃদ্ধি এবং নতুন ডেলিমিটেশন প্রক্রিয়ার প্রস্তাবও আটকে যায়। বিরোধী দলগুলো (ইন্ডিয়া জোট) দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিলের বিরোধিতা করে।

   

আরও দেখুনঃ পাশ হল না মহিলা সংরক্ষণ বিল! উত্তপ্ত পরিবেশ সংসদে

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা হবে। কিন্তু বিরোধীদের বাধায় সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।এই পরাজয়ের ঠিক পরদিন মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, সরকার এখন বিলটি পুনরায় আনার কৌশল নিয়ে আলোচনা করবে। কেউ বলছেন, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে বা নতুন করে সংশোধনী আনার পরিকল্পনা হতে পারে।

আবার কারও মতে, মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল বা নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী জানিয়েছেন, নারীদের ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার পিছিয়ে আসবে না।সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, বিলটি পরাজিত হলেও সরকার নারী সংরক্ষণের লক্ষ্য থেকে সরে আসবে না।

তিনি বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থে নারীদের অধিকার আটকে রাখা যাবে না।” অন্যদিকে বিরোধী নেতারা দাবি করছেন, সরকার তাড়াহুড়ো করে বিল আনতে চেয়েছিল এবং দক্ষিণ রাজ্যগুলোর স্বার্থ রক্ষা করেনি।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বিলটি পুনরায় আনার কৌশল, বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার পথ, আসন্ন রাজ্য নির্বাচনগুলোতে প্রভাব এবং সরকারের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিকল্পনা। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এই পরাজয়ের পর সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়নের ইস্যুতে।