নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ নেই! তালিকায় নাম থাকলেও হতে পারে হিয়ারিং

কলকাতা: নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ নেই খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই (West Bengal Draft Voter List)যে আপনার ভোটাধিকার সুরক্ষিত, এমনটা ভাবলে ভুল হতে পারে। মঙ্গলবার ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের খসড়া ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
West Bengal voter list deletion

কলকাতা: নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ নেই খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই (West Bengal Draft Voter List)যে আপনার ভোটাধিকার সুরক্ষিত, এমনটা ভাবলে ভুল হতে পারে। মঙ্গলবার ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিয়ারিং বা শুনানি। এই হিয়ারিং পর্বে এমন বহু ভোটারকে ডাকা হতে পারে, যাঁদের নাম খসড়া তালিকায় রয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের কাছে বিভিন্ন নথি চাওয়া হবে। সেই নথি দেখাতে ব্যর্থ হলে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কি না তা কমিশনের বিচার-বিবেচনার উপরই নির্ভর করবে।

   

ভবানীপুরে ৪৪ হাজারের বেশি নাম বাদ! কালীঘাটে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মমতা

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হিয়ারিং কোনও সাধারণ প্রক্রিয়া নয়। ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতেই এই উদ্যোগ। বিশেষ করে যাঁদের তথ্য নিয়ে সামান্য হলেও অসঙ্গতি বা সন্দেহ রয়েছে, তাঁদেরই মূলত ডাকা হবে। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে—কারা ডাক পাবেন, আর কী কী নথি লাগতে পারে?

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে, যাঁদের ক্ষেত্রে ম্যাপিং সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ, ২০০২ সালের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর সঙ্গে যাঁদের তথ্যের কোনও লিঙ্ক পাওয়া যায়নি, অথচ ২০২৬ সালের খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে—তাঁদের ডেকে পাঠানো হতে পারে। এই শ্রেণির ভোটারদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ও পরিচয় সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হবে।

দ্বিতীয়ত, কমিশনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের হিয়ারিং প্রায় নিশ্চিত। এই ধরনের ভোটারের সংখ্যা নেহাত কম নয়—প্রায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষ। প্রোজেনি ম্যাপিং বা সেল্ফ ম্যাপিংয়ে নাম থাকলেই যে ডাক পড়বে না, এমনটা ভাবার কারণ নেই। উদাহরণস্বরূপ, যদি এনিউমারেশন ফর্মে বাবা ও ছেলের বয়সের ফারাক অস্বাভাবিক মনে হয়, বা পারিবারিক সম্পর্কের তথ্যে গরমিল ধরা পড়ে, তবে সরাসরি হিয়ারিংয়ের নোটিস আসতে পারে। কমিশনের লক্ষ্য, কোনও ভুল বা ভুয়ো তথ্য যেন চূড়ান্ত তালিকায় না থাকে।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জেন্ডার মিসম্যাচ। ভোটার তালিকায় নাম, ছবি বা অন্যান্য নথির সঙ্গে লিঙ্গ সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতি থাকলেও হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে। অনেক ক্ষেত্রে টাইপিং বা ডেটা এন্ট্রির ভুলেই এই সমস্যা তৈরি হয়, কিন্তু কমিশন তা যাচাই না করে ছাড় দিতে রাজি নয়।

এ ছাড়াও, যে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্যও একটি বড় সুযোগ রাখা হয়েছে। এই ভোটারদের মধ্যে কেউ যদি মনে করেন যে তিনি এনিউমারেশন পর্বে অনুপস্থিত ছিলেন, স্থানান্তর সংক্রান্ত তথ্য ভুল হয়েছে, অথবা জীবিত থাকা সত্ত্বেও মৃত ভোটারের তালিকায় তাঁর নাম উঠে গিয়েছে—তাঁরা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ৬ নম্বর ফর্মের সঙ্গে একটি ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম ও প্রয়োজনীয় সাপোর্টিং ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হিয়ারিং পর্বই ঠিক করে দেবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার ভবিষ্যৎ রূপরেখা। তাই খসড়া তালিকায় নাম আছে বলে নিশ্চিন্ত না থেকে এখনই নিজের তথ্য যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনীয় নথি—পরিচয়পত্র, জন্ম সংক্রান্ত কাগজ, ঠিকানার প্রমাণ—সব প্রস্তুত রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, সামান্য অসতর্কতাই ২০২৬ সালের ভোটে আপনার ভোটাধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google