দল ক্ষমতা থেকে সরতেই তৃণমূলের (All India Trinamool Congress) অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র অশান্তি ও দোষারোপের রাজনীতি। একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দলের পরাজয়ের জন্য পরস্পরকে দায়ী করছেন। বিশেষ করে যুব নেতৃত্বের একটি অংশ বারবার আঙুল তুলেছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দিকে। তাদের দাবি, নির্বাচনী কৌশল থেকে শুরু করে সংগঠন পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই ভুল সিদ্ধান্তের ফলেই এসেছে এই বিপুল হার। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পাঁচজন নেতাকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
তবে এই সমালোচনার স্রোতের মধ্যেই ভিন্ন সুর শোনা গেল দলের বর্ষীয়ান নেতা ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-এর কণ্ঠে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই পরাজয়ের দায় এককভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপানো উচিত নয়। একাধিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে অভিষেক যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন এবং সংগঠনকে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতে, “আমাদের দলকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় -এর পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় তিনি (অভিষেক) এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ২০২১ সালের ‘নবজোয়ার যাত্রা’ ছিল অত্যন্ত সফল ও প্রভাবশালী উদ্যোগ। তাই এখন হঠাৎ করে কাউকে স্কেপগোট করা ঠিক নয়।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া ব্যক্তিগত দোষারোপের রাজনীতির বিরোধিতা করছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে শুধুমাত্র একজন নেতার কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। তাঁর মতে, সমগ্র রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী দলের কৌশল এবং মাঠ পর্যায়ের লড়াই সবকিছু মিলিয়েই ফলাফল নির্ধারিত হয়। তাঁর কথায়, “অভিষেক কম পরিশ্রম করেননি, কম লড়াইও করেননি। তারপরও যদি ফল আমাদের পক্ষে না আসে, তাহলে তার জন্য এককভাবে কাউকে দায়ী করা ঠিক নয়। বিরোধী দল যে রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, তার প্রভাবও এই ফলাফলে পড়েছে।”
দলের ভেতরে চলা বিরূপ মন্তব্য নিয়েও কড়া অবস্থান নেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দলে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু তা প্রকাশ্যে এনে সংগঠনকে দুর্বল করা উচিত নয়। তাঁর মতে, পারিবারিক উদাহরণ টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, দলও একটি পরিবারের মতো। তিনি বলেন, “সন্তান যদি ভুল করে, তাহলে তাকে ঘরের ভিতরে বোঝানো উচিত। মা-বাবা কখনও মাইক লাগিয়ে বাইরে গিয়ে সন্তানকে অপমান করেন না। তেমনভাবেই রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও অভ্যন্তরীণ বিষয় বাইরে আনা ঠিক নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, যদি কারও মধ্যে বিরূপতা বা ক্ষোভ থেকে থাকে, তাহলে তা আগে থেকেই উপযুক্ত ফোরামে জানানো উচিত ছিল। এখন ফল ঘোষণার পর প্রকাশ্যে এসব মন্তব্য করা মানে দলীয় ঐক্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলা। তাঁর মতে, যারা এখন এই ধরনের মন্তব্য করছেন, তারা আদতে দলের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।




















