তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার জ্যাংড়ার পঞ্চায়েত প্রধান

কলকাতা: রাজ্যে তোলাবাজি এবং দাদাগিরির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। (extortion cases)মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
tmc-leaders-rita-gayen-sudip-polley-arrested-extortion

কলকাতা: রাজ্যে তোলাবাজি এবং দাদাগিরির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। (extortion cases)মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আর সেই বার্তারই প্রতিফলন এবার একের পর এক গ্রেফতারিতে। শনিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে জ্যাংড়া হাতিয়াড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান রীতা গায়েনকে। একই সঙ্গে তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন কলকাতার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লেও।

পুলিশ সূত্রে খবর, নিউটাউন থানার পুলিশ শনিবার গভীর রাতে রীতা গায়েনকে তাঁর বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হত। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পঞ্চায়েত এলাকায় কাজ করাতে গেলে বা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হত।

   

আরও দেখুনঃ বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর! অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বাংলার জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগগুলির ভিত্তিতে বেশ কিছুদিন ধরেই তদন্ত চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু তথ্য সামনে আসার পরই পুলিশ পদক্ষেপ করে। রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। শুধু রীতা গায়েনই নন, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছেন, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর।

অন্যদিকে কলকাতাতেও বড় পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। ঠাকুরপুকুর থানায় দায়ের হওয়া তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে। তিনি ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হওয়ার পাশাপাশি ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদেও ছিলেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতায় এই প্রথম কোনও তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেফতারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই গ্রেফতারি। অভিযোগ, দোকান চালাতে হলে ৫ লক্ষ টাকা তোলা দিতে হবে বলে দাবি করেছিলেন সুদীপ পোল্লে। টাকা না দেওয়ায় দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ব্যবসায়ীকে মারধরেরও অভিযোগ ওঠে। এমনকি ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি অভিযোগকারীর।

শুধু এই একটি অভিযোগ নয়, গ্রেফতারের পর আরও দুই ব্যবসায়ী হরিদেবপুর এবং ঠাকুরপুকুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগেও উঠে এসেছে তোলাবাজি, ভয় দেখানো এবং এলাকায় প্রভাব খাটানোর বিষয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে জমি দখল, দাদাগিরি, তোলাবাজি এমনকি পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও আগে উঠেছিল।

এলাকার বহু মানুষ দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় একপ্রকার আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে স্থানীয় বাসিন্দা
অনেকেই নীরবে সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। তবে সরকার বদলের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।রাজনৈতিক মহলেও এই গ্রেফতারিকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এতদিন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বহু নেতা বাঁচলেও এখন প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারের মূল লক্ষ্য হল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা। সেই কারণেই তোলাবাজি, দাদাগিরি এবং দুর্নীতির অভিযোগে দ্রুত পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আগামী দিনে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত এগোতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। বর্তমানে দুই অভিযুক্তকেই আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google