Home West Bengal বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর! অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বাংলার জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার

বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর! অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বাংলার জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার

holding-centres-for-bangladeshi-rohingya-infiltrators-bengal

কলকাতা: বাংলায় বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিল (Holding centres)পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দফতর। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। মূলত ধৃত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা এবং বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের রাখার জন্যই এই বিশেষ কেন্দ্রগুলি তৈরি করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

- Advertisement -

স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে সম্প্রতি সমস্ত জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে ধৃত বিদেশি নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে রাখার জন্য প্রত্যেক জেলায় নির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নাগরিক বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন কিন্তু তাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তাঁদের এই হোল্ডিং সেন্টারেই রাখা হবে।

   

আরও দেখুনঃ মাঝরাতে শুরু উচ্ছেদ অভিযান, জাভেদের ছেলে সহ সোনা পাপ্পুর বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে বুলডোজার

প্রশাসনিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সীমান্তবর্তী জেলা ছাড়াও কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বহু বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকের থাকার অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বলেও অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফেও রাজ্যগুলিকে বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, হোল্ডিং সেন্টারগুলি জেল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। সেখানে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় যাচাই, আইনি প্রক্রিয়া এবং তাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর প্রশাসনিক কাজও সেখান থেকেই পরিচালিত হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, এটি কোনও স্থায়ী বন্দিশিবির নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে রাখার একটি ব্যবস্থা।

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে সরব ছিল। তাদের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে অবাধে অনুপ্রবেশের কারণে রাজ্যের নিরাপত্তা ও জনসংখ্যার ভারসাম্য দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে শাসকদলের একাংশের বক্তব্য, মানবিক দিক মাথায় রেখেই আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশও বিষয়টি নিয়ে নজর রাখতে শুরু করেছে। তাঁদের বক্তব্য, হোল্ডিং সেন্টারে থাকা ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার ও মানবিক পরিস্থিতির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শিশু ও মহিলাদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

Follow on Google