ভোটের মুখেই কেন্দ্রীয় সংস্থাদের হাইভোল্টেজ বৈঠক! বিপদের গন্ধ পাচ্ছে তৃণমূল

tmc-150-hour-plan-claim-central-agencies-west-bengal-polls
NIA Steps Up Special Monitoring in Sensitive Areas Ahead of Final Phase Polls

প্রথম দফা বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ চরমে উঠছে। (West Bengal elections)ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের পালা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে বড়সড় দাবি করে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন অভিযোগ করেছেন, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় স্তরে একটি “১৫০ ঘণ্টার পরিকল্পনা” নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গকে অস্থির করে তোলা।

তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, তাদের কাছে “বিশ্বস্ত তথ্য” রয়েছে যে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রধানদের সিবিআই, ইডি এবং এনআইএ। অভিযোগ, এই বৈঠকের পরবর্তী ১৫০ ঘণ্টার মধ্যে কিছু “অসৎ ও চক্রান্তমূলক পদক্ষেপ” নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ ভোটের মুখে গ্রেফতার তৃণমূল সাংসদের শশুর-শ্যালক

ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্য, এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনের আগে বিরোধী দল তথা তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপে রাখা এবং প্রশাসনিকভাবে অস্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি করা। তাঁর কথায়, “এটা শুধুমাত্র রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটা গণতন্ত্রের উপর আঘাত। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে ভোটের আগে পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।” যদিও এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেননি তিনি, তবুও এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপি শিবির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এমন অভিযোগ তুলছে। বিজেপির একাধিক নেতা বলেছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং আইন অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করে। নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই বলেই তাদের দাবি।

যদিও এই মুহূর্তে রাজ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির অভিযান বেড়েছে এবং রাজ্যের প্রভাবশালীদের বাড়ি তল্লাশি থেকে শুরু করে তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আইপ্যাক কর্ণধার এবং ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেল গ্রেফতার হয়েছেন এবং সান গ্ৰুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল গম পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে প্রাক্তন সাংসদ নুসরাত জাহানকে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলেছেন এই ধরণের ঘটনা নির্বাচনের আগে স্বাভাবিক এবং তৃণমূলকে প্যাঁচে ফেলতেই নির্বাচনের আগে ইডি তল্লাশি বেড়েছে রাজ্যে।