টাকা না পেলে চিন্তা নয়! অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এল বড় স্বস্তির ঘোষণা

বাংলার বহু পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির (Annapurna Yojana) খবর এনে দিয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা…

domjur-sees-womens-protest-over-alleged-irregularities-in-annapurna-bhandar-scheme

বাংলার বহু পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির (Annapurna Yojana) খবর এনে দিয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে গিয়েছে। এই টাকা পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই উপভোক্তাদের মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। তবে এখনও এমন অনেক আবেদনকারী রয়েছেন, যাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি। ফলে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, তাঁদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কি না।

আরও পড়ুন: বারুইপুর কাণ্ড: শিউরে ওঠার মতো ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, নৃশংস ধর্ষণের ইঙ্গিত

বর্তমানে বহু আবেদনকারী (Annapurna Yojana) অনলাইনে নিজেদের আবেদনপত্রের স্টেটাস চেক করে দেখছেন। সেখানে কারও স্টেটাসে “Under Enquiry” দেখাচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে “Application Rejected” লেখা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কী করবেন, তা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তবে এই আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক তথা স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়।

আরও পড়ুন: ‘সংবাদমাধ্যম চুপ কেন-মোমবাতি মিছিলের কভারেজ হবে তো?’ বারুইপুর কাণ্ডে প্রশ্ন কুনালের

রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, যেসব মহিলার অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিল হয়েছে, তাদের আবেদন নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের আধিকারিকরা সরাসরি আবেদনকারীদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন। আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় পরীক্ষা করে দেখা হবে কেন আবেদনটি বাতিল হয়েছে। যদি যাচাইয়ের পর দেখা যায় যে আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে এই প্রকল্পের যোগ্য, তাহলে তাঁকে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না।

মন্ত্রী মালতি রাভা রায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যোগ্য আবেদনকারীদের কেউই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।” তাঁর এই বক্তব্যে বহু আবেদনকারীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের আবেদন কোনও কারণে রিজেক্ট হয়েছে, তাঁদের জন্য এই ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে গত শনিবার উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের নেতৃত্বে হওয়া ওই বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত আবেদন যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।

এই সময়সীমার মধ্যে শুধু রিজেক্ট হওয়া আবেদনগুলিই নয়, যেসব আবেদন এখনও “Under Enquiry” অবস্থায় রয়েছে, সেগুলিও দ্রুত পরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি যেসব আবেদন অফলাইনে জমা পড়েছে, সেগুলিকে ডিজিটাল পোর্টালে আপলোড বা ডিজিটাইজ করার কাজও ১০ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে এবং ভবিষ্যতে যাচাই বা অর্থ স্থানান্তরের কাজ আরও সহজ হবে।

যেসব আবেদনকারীর স্টেটাস এখনও পরিবর্তন হয়নি, তাঁদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা। কারণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই আবেদন বাতিল দেখালেও অনেক ক্ষেত্রেই পুনরায় যাচাইয়ের পর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে।

যদি কোনও আধিকারিক আপনার বাড়িতে তথ্য যাচাইয়ের জন্য আসেন, তাহলে আবেদনপত্রে ব্যবহৃত সমস্ত নথি যেমন আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্ক পাসবই, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন। সঠিক তথ্য প্রদান করলে যাচাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং যোগ্য হলে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।