কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের মাঝে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। এরই মধ্যে বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)প্রার্থীপদ খারিজের দাবিতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয়। মামলাকারী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, গত ৩ এপ্রিল ভবানীপুর ও পরে মেদিনীপুরে এক জনসভায় তিনি উস্কানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
বিশেষ করে ‘ধর্মনিরপেক্ষতার পতন চাই’ জাতীয় স্লোগান তুলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিরোধিতা করেছেন বলে দাবি করা হয়। মামলায় প্রার্থনা ছিল, এই ধরনের মন্তব্যের কারণে শুভেন্দুর নন্দীগ্রাম বা অন্য কোনো আসনের প্রার্থীপদ বাতিল করা হোক।কিন্তু শুনানির সময় আদালত মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবীদের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করে সংবিধানের কোন ধারায় দাঁড়িয়ে এই প্রার্থীপদ বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে?
আরও দেখুনঃ চৌরঙ্গীর ভোট প্রচারে মমতার ‘চামার’ মন্তব্যে উস্কাল বিতর্ক
আইনজীবীরা কোনো নির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ করতে না পারায় বেঞ্চ সন্তুষ্ট হয়নি। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল পর্যবেক্ষণে বলেন, “সংবিধানের কোনো সুনির্দিষ্ট ধারা ছাড়া এমন একটি গুরুতর আবেদন গ্রহণ করা যায় না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার জন্য আদালতের দরজায় এভাবে আসা যায় না।” শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়।এই রায়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর শিবিরে স্বস্তির হাওয়া বইছে।
বিজেপি নেতারা বলছেন, তৃণমূলের ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ আরেকবার ব্যর্থ হয়েছে। শুভেন্দু নিজে এই মামলাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, বাংলায় হিন্দু ভোটারদের মধ্যে জাগরণ ঘটানোর চেষ্টাকে কিছু মহল সহ্য করতে পারছে না। নন্দীগ্রাম থেকে তাঁর মনোনয়ন ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, জনতার সমর্থনে তিনি জয়ী হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের মামলা দায়ের করে বিরোধী নেতাদের চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু আদালত যেভাবে আইনের কঠোরতা মেনে মামলা খারিজ করেছে, তাতে প্রমাণিত হয় যে, নির্বাচনী লড়াইয়ে আদালতকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সহজ নয়। মামলাকারী পক্ষ অবশ্য বলছে, তাঁরা উচ্চতর আদালতে যাওয়ার বিষয়ে ভাবছেন।




















