নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মন্ত্রিসভায় কে কোন দায়িত্বে

suvendu-adhikari-cabinet-portfolio-distribution

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম এখন পূর্ণ গতিতে শুরু হয়ে গিয়েছে (cabinet portfolio)। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার ক্যাবিনেট বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই রাজ্যের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টনও সম্পন্ন হল। ফলে কোন মন্ত্রীর কাঁধে কোন দায়িত্ব উঠল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

নবান্নে অনুষ্ঠিত এই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে নতুন সরকার দ্রুত প্রশাসনিক কাজ শুরু করতে চায় এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেই আবহেই নতুন মন্ত্রীদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃযোগী রাজ্যের বারাণসীতে ওয়াকফ বোর্ডের ‘মুসাফির খানা’ সম্পত্তিতে চলল বুলডোজার

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলির মধ্যে অন্যতম পেয়েছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁকে পঞ্চায়েত দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ বাংলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই দফতরগুলি বিজেপির ভবিষ্যৎ সংগঠন শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের গ্রামীণ রাজনীতিতে সক্রিয় দিলীপ ঘোষের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিজেপির অন্যতম মুখ অগ্নিমিত্রা পালকে দেওয়া হয়েছে নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব। পাশাপাশি পুর ও নগরোন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শহুরে ভোটব্যাঙ্ক এবং মহিলা ভোটারদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব আরও বাড়ানোর কৌশল হিসেবেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নিমিত্রা পাল দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মহিলা রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত।

খাদ্য দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই দফতর আগামী দিনে সরকারের ভাবমূর্তি গঠনে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে রেশন ব্যবস্থা, খাদ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিষয়গুলিতে এই দফতরের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিশীথ প্রামাণিককে দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিকে আরও মজবুত করতে এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে ক্রীড়া দফতরও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। জঙ্গলমহল এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকার উপর নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর দফতর বণ্টনের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সরকার দ্রুত প্রশাসনিক কাজ শুরু করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে অঞ্চলভিত্তিক ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রেখেই মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।