ওয়াংচুকের মুক্তি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের

নয়াদিল্লি: লাদাখের বিখ্যাত জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk)মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে চলা শুনানিতে মোদী সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি জানিয়ে…

sonam-wangchuk-nsa-detention-supreme-court-case

নয়াদিল্লি: লাদাখের বিখ্যাত জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk)মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে চলা শুনানিতে মোদী সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এর অধীনে আটক সোনাম ওয়াংচুককে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চকে বলেছেন, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা একাধিকবার করা হয়েছে মোট ২৪ বার এবং তিনি “ফিট, হেল অ্যান্ড হার্টি” অর্থাৎ পুরোপুরি সুস্থ ও সক্ষম।

তাঁর স্বাস্থ্যের কোনো গুরুতর সমস্যা নেই যা মুক্তির ভিত্তি হতে পারে। কেন্দ্রের যুক্তি, আটকের মূল কারণগুলো এখনও বহাল রয়েছে, তাই মুক্তি দেওয়া অসম্ভব এবং এমনকি অবাঞ্ছিতও।এই ঘটনার পটভূমি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। লাদাখে রাজ্যের মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। সোনাম ওয়াংচুক এই আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব দেন। তিনি অনশন শুরু করেন, যা পরে হিংসায় রূপ নেয়।

   

আরও দেখুন: ঐতিহাসিক বাজেট পেশ করে মমতাকে টেক্কা যোগীর

২৪ সেপ্টেম্বর লেহ-তে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চারজন নিহত হন এবং ১৫০-এরও বেশি আহত হন। আগুন লাগানো হয় বিজেপি অফিস, পুলিশের গাড়ি এবং অন্যান্য সরকারি ভবনে। এই ঘটনার দু’দিন পর, ২৬ সেপ্টেম্বর ওয়াংচুককে এনএসএ-এর অধীনে আটক করা হয়। তাঁকে জোধপুর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়েছে। সরকারের অভিযোগ, ওয়াংচুকের বক্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, যা সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করেছে।

তিনি নেপাল ও বাংলাদেশের মতো গণ-আন্দোলনের উদাহরণ দিয়ে যুবকদের উত্তেজিত করেছেন বলে দাবি। এমনকি লাদাখবাসীদের ‘আমরা’ এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘তারা’ বলে উল্লেখ করাকেও বিভাজনকারী বলে দেখা হয়েছে।ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অঙ্গমো হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দিয়ে আটককে অবৈধ ঘোষণার দাবি করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও পি বি ভারালের বেঞ্চ এই মামলা শুনছে। আগের শুনানিতে আদালত ওয়াংচুকের বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা দেখে কেন্দ্রকে পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিল।

আদালত বলেছিল, তাঁর স্বাস্থ্য “খুব ভালো নয়”। কিন্তু ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর শুনানিতে তুষার মেহতা স্পষ্ট করে বলেন, ওয়াংচুকের কোনো গুরুতর অসুস্থতা নেই শুধু সামান্য পেটের সংক্রমণ ছিল, যা সেরে গেছে। জেল ম্যানুয়াল অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা হয়েছে, কোনো অ্যালার্মিং কিছু নেই। আদালতের পরামর্শে সরকার “যথাসম্ভব বিবেচনা” করেছে, কিন্তু মুক্তি দেওয়া যাবে না।আদালত ওয়াংচুকের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

সরকার যখন তাঁর স্পিচকে উস্কানিমূলক বলে দাবি করে, আদালত বলেছে, “আপনারা এতে অনেক বেশি পড়ছেন।” ওয়াংচুকের বক্তব্যে হিংসার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, উস্কানি নয় বলে মনে হয়েছে আদালতের। তবে কেন্দ্রের যুক্তি, তাঁর কথায় সীমান্ত এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা ছিল। এনএসএ আইন প্রতিরোধমূলক আটকের অনুমতি দেয়, যা ১২ মাস পর্যন্ত চলতে পারে।