
কলকাতা: এ যেন মহামেডান স্পোর্টিংয়ের মাঠ নয়। যেন মোহনবাগানের (Mohun Bagan) হোমগ্রাউন্ড। চারিদিকে একটাই শব্দব্রহ্ম ‘জয় মোহনবাগান’। যে দিকেই তাকাবেন সে দিকেই শুধু সবুজ মেরুন ঝড়। এমনই দৃশ্য দেখা গেল বুধবার দুপুরে। এটা হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। এআইএফএফের অনূর্ধ্ব-১৪ সাব জুনিয়র ইউথ লিগে মহামেডান স্পোর্টিংকে ২৩ গোলের মালা পরিয়ে যে বরণ করল মোহনবাগান। ইতিহাস গড়ার আরেক নাম মোহনবাগান। বিশ্ব ফুটবলে সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে মোহনবাগানের নাম।
“আমাদের খুঁজলে পাবে, সোনায় লেখা ইতিহাসে…” – এই গানের কলিটা এখন বড্ড মনে পড়ছে মোহনজনতাদের। কারণ এ যেন শুধু গান নয়, তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন শাকিল শেখ, দর্পণ হাতিবড়ুয়া, সিদু সোরনরা। বিপক্ষের ডেরার গিয়ে মুহুর্মুহু আক্রমণে করে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের রক্ষণ খুব সহজেই ভেঙে দেন মেরিনার্সরা। প্রায় দু’ডজন গোল করে বিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করার নামই তো মোহনবাগান। হলপ করে বলা যেতে পারে, এই মোহনবাগানকে দেখে ভয়ে কাঁপবে তাবড় তাবড় প্রতিপক্ষরাও। এই মোহনবাগান যেন মাঠে নামে শুধুমাত্র ইতিহাস গড়ার জন্যই। তা আবারও প্রমাণিত।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই মহামেডান স্পোর্টিংয়ের জাল কাঁপান দর্পণ হাতিবড়ুয়া। সেই শুধু হল সবুজ মেরুনের গোলের খাতা খোলা। ৬ টি গোল করেন দর্পণ। অনুব্রত বাউল দাস সর্বাধিক ৮ টি গোল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সাদা কালো জার্সিধারীদের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের হয়ে গোল করেন সিদু সোরেন (২), অধিনায়ক সাগ্নিক কুণ্ডু ((২), কার্তিক হেমব্রম (২), জিয়ন হাঁসদা (১) ও যিশু চক্রবর্তী (১), শেখ সাকিবউদ্দিন (১)। ফুটবল ইতিহাসে ৩৬-০ গোলের নজির রয়েছে আর্ব্রোথর দখলে। ১৮৮৫ সালে স্কটিশ কাপে বন একর্ডের বিরুদ্ধে এই নজির গড়েছিল তাঁরা।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড রয়েছে অজি ফুটবলার আর্চি থম্পসনের দখলে। সামোয়ার বিরুদ্ধে ১৩ টি গোল করেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিশ্বরেকর্ড করতে না পারলেও উপমহাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য নজির গড়ে ফেললেন অনুব্রত বাউল দাস। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে ৮ টি গোল করেছেন তিনি। ১৯৮৭ সালে ভুটানের বিরুদ্ধে ৫ গোল করেছিলেন নেপালের গণেশ থাপা। এদিন তাঁর রেকর্ড ভেঙে দিলেন সবুজ মেরুনের অনুব্রত বাউল দাস।













