‘সময় এসেছে সবক শেখানোর’, হুমায়ুনকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, দায়ের ২ FIR

কলকাতা: বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উসকানিমূলক ও বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে এবার সরাসরি বিধানসভার অধিবেশনে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে…

কলকাতা: বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উসকানিমূলক ও বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে এবার সরাসরি বিধানসভার অধিবেশনে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে কোনও রকম প্ররোচনামূলক বা লাগামছাড়া কথা এই নতুন সরকার বরদাস্ত করবে না। ইতিমধ্যেই হুমায়ুনের বিরুদ্ধে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় দুটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

‘ওটাই ওঁর শেষ বক্তব্য ধরে রাখতে পারেন!’

সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অত্যন্ত কড়া মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনি কান খুলে শুনে রাখুন, এইভাবে ধমক, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেবো না, দেবো না, দেবো না। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর। আপনারা ধরে রাখতে পারেন এটা ওঁর শেষ বক্তব্য। এ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, গুন্ডাদের শাসন সমাপ্ত করবে।”

   

হুমায়ুনকে নিশানা করে তিনি আরও যোগ করেন, “আপনাকে পরিষ্কার বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। এবার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হুমায়ুনের ‘আসল খেলা’ ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা থেকেই এই ধরনের মেরুকরণের বক্তব্য রাখছেন। শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় হুমায়ুনের দুটি গোপন ছক তুলে ধরেন:

পঞ্চায়েত ভাঙার চেষ্টা: ভরতপুর, রেজিনগর ও নওদায় নির্বাচিত পঞ্চায়েত বোর্ডগুলি ভেঙে সেই সদস্যদের হুমায়ুন নিজের নতুন দল ‘AJUP’-এ নিয়ে যেতে চান, যা তিনি করতে পারছেন না।

ছেলের জন্য উপনির্বাচনের জমি তৈরি: হুমায়ুন দুটি আসনে জিতে নিয়ম মেনে রেজিনগর থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন। ওই আসনে ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোটকে হাতিয়ার করে নিজের ছেলেকে জেতাতেই এই ‘খেলা’ খেলছেন তিনি।

সন্দেশখালি ও ক্যানিংয়ের উদাহরণ টেনে বার্তা

রাজ্যে যে আর কোনও ‘বাহুবলী’ বা গুন্ডারাজ চলবে না, তা বোঝাতে অতীতে ঘটে যাওয়া তিনটি বড় উদাহরণ মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,  “সন্দেশখালিতে একজন ছিল (শেখ শাহজাহান), ২০২৪-এর ১ জানুয়ারি যে বলেছিল তৎকালীন বিরোধী দলনেতার হাত-পা কেটে মেদিনীপুরে চামড়া ছাড়িয়ে পাঠিয়ে দেবে। ওর অবস্থা এখন কী হয়েছে সবাই দেখছে।” “আর একজন জীবনতলার গুন্ডা, ক্যানিংয়ের। ওর অবস্থাও এখন সবাই দেখতে পাচ্ছে।” “আরেকটা ছিল ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি’। সে এখন এমন ঝুকেছে যে, খালি পায়ে ছোট প্যান্ট পরে কান ধরে ওঠবস করতে করতে যাচ্ছে।”

ঠিক কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর?

গত ৮ জুন শক্তিপুরে এবং ২৬ জুন রেজিনগরে দলীয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে তিনি বলেছিলেন, “মুর্শিদাবাদে আস্ফালন কম করতে বলবেন। যে দিন ময়দানে নেমে যাব, সে দিন আপনাদের পতাকা ধরার লোক থাকবে না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে লাখ লাখ লোককে রাস্তায় নামাব, আর স্যাটাভাঙা মার দেব। আমার মাথা যে দিন গরম হয়ে যায়, সে দিন আমি এসপি-ও বুঝব না, মুখ্যমন্ত্রীও বুঝব না।”

‘আমি তো বিজেপির বিরুদ্ধে বলেছি’, সাফাই হুমায়ুনের

মুখ্যমন্ত্রীর এই চরম হুঁশিয়ারির পর অবশ্য নিজের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর সাফাই, “আমি তো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি বিজেপিকে বলেছি। নবাগত শিক্ষানবিস বিজেপিরা আমার বাড়ির কাছে গিয়ে আমাকে আক্রমণ করেছে। আমি কি রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করব না? কার কাছে উনি ক্ষমা চাইতে বলছেন, তা স্পষ্ট করুন।”

তবে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে তিনি নিজে মুর্শিদাবাদ যাচ্ছেন এবং সেখানে প্রমাণ করে দেবেন যে ভারতবর্ষের সংবিধান ও আইনই শেষ কথা বলে, কোনও ‘বাতেলাবাজ’ নয়।