কলকাতা: দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগেই ফের তৃণমূল বনাম বিজেপি। (Sayani Ghosh)এবার সায়নীর মুখোমুখি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ ও অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ একটি জনসভায় গেয়ে উঠেছিলেন, “আমার হৃদয়ে কাবা, চোখে মদিনা”। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনায় সরাসরি পাল্টা কটাক্ষ করেছেন।
তিনি বলেছেন, যারা কাবা-মদিনা নিয়ে কথা বলেন, তাদের উচিত সেখানেই স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া। ভারতে থেকে আয়োধ্যা নিয়ে কথা বলুন। আজমির শরিফ নিয়ে কথা বললে আপত্তি নেই, কিন্তু কাবা-মদিনা নিয়ে কথা বললে মনে হয় এদের মানসিক সমস্যা রয়েছে।হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও বলেন, “যারা কাবা আর মদিনার কথা বলেন, তাদের উচিত সেখানেই চলে যাওয়া। ভারতে থাকলে আয়োধ্যা নিয়ে কথা বলুন।
আরও দেখুনঃ মুম্বাই বনাম বেঙ্গালুরু মহারণ, পয়েন্ট টেবিলে টপ ফোরে থাকার লড়াই
তার এই মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে একে তৃণমূলের ‘আপীজমেন্ট পলিটিক্স’-এর বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।সায়নী ঘোষের এই গানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তিনি একটি নির্বাচনী প্রচার সভায় উৎসাহের সঙ্গে এই লাইনগুলো গেয়েছিলেন।
সমালোচকরা বলছেন, এর আগেও সায়নী ঘোষ শিবলিঙ্গ নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এখন কাবা-মদিনা নিয়ে এমন উচ্ছ্বাস দেখিয়ে তিনি একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ। তৃণমূলের সমর্থকরা অবশ্য বলছেন, এটি তার ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক অনুভূতি এবং প্রেক্ষাপট থেকে সরিয়ে নিয়ে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে।হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শুধু এই মন্তব্যেই থামেননি।
পশ্চিমবঙ্গে নন-ভেজ খাবার নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগের জবাবেও তিনি তীক্ষ্ণ আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “তারা যদি একবার আমার সঙ্গে বসে খায়, তাহলে দেখব কে বেশি খায় তারা না আমি। আমি তাদের থেকে এক কেজি বেশি খাব। ৪তারিখে আমরা ‘মাছের ঝোল’ খাব।” এই কথায় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অসমে বিজেপি সরকার থাকাকালীন কোনো নন-ভেজ খাবার নিষিদ্ধ হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রচার করছেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার বলে তিনি অভিযোগ করেন।হিমন্তের এই চ্যালেঞ্জ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি বলেছেন, অসমে সব ধর্মের মানুষ নিজেদের সংস্কৃতি অনুসারে খাবার খান এবং কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে ভয় দেখিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে। “মমতা দিদি চিন্তিত যে, বিজেপি সরকার এলে গরুর মাংসের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে,”এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।




















