
কলকাতা: কলকাতা বন্দরের কাছে কাশীপুর স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোড সংলগ্ন এলাকায় রবিবার পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি (Ritesh Tiwari)বড়সড় অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই অঞ্চলের বস্তি এলাকায় ব্যাপক হারে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং সেইসঙ্গে চলছে অবৈধ নির্মাণের রমরমা কারবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিন ঘুরে দেখে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন।
📢 Bengal BJP MLA Ritesh Tiwari visited an area near Kashipur Strand Bank Road adjoining Calcutta Port.
He alleges large-scale illegal Bangladeshi infiltration and unauthorised constructions in nearby slums. pic.twitter.com/55C6ln5u9Z
— The Analyzer (News Updates🗞️) (@Indian_Analyzer) May 10, 2026
রীতেশ তিওয়ারি কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। এলাকাটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত হলেও বছরের পর বছর ধরে এখানকার বস্তি এলাকাগুলোতে নানা ধরনের সমস্যা জমে উঠেছে। বিধায়কের সফরের সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাঁর কাছে অভিযোগ করেন যে, সীমান্তের ওপার থেকে আসা অসংখ্য মানুষ এখানে আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই নাকি জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভোটার লিস্টে নাম তুলছেন, রেশন কার্ড পাচ্ছেন এবং সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন তৃণমূল আমলে এই দুর্নীতি আরও বেশি হয়েছে।
আরও দেখুনঃ বাংলার ক্রিকেটে কোচ বদলের জোর জল্পনা, এগিয়ে ঋদ্ধিমান সাহা !
রীতেশ বলেন, “এটা শুধু অভিবাসনের সমস্যা নয়, এটা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। কলকাতা পোর্টের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় যদি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা ঘাঁটি গড়ে তোলে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে।”সফরকালে বিধায়ক দেখতে পান যে, স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোডের পাশে ছোট ছোট বস্তিতে একের পর এক ঘর তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি ছাড়াই ইট-কাঠ-বাঁশ দিয়ে গড়ে উঠছে অস্থায়ী আবাসন।
স্থানীয় লোকজন জানান, এসব নির্মাণের পেছনে কিছু দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা নাকি বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষদের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়ে এখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “রাতের অন্ধকারে ট্রাকে করে লোকজন আসে। সকালে দেখা যায় নতুন মুখ। প্রশাসন কেন চুপ করে আছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।”রীতেশ তিওয়ারি এই ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে কলকাতা ও তার আশপাশে এই ধরনের অনুপ্রবেশ বেড়েছে। “আমরা চাই না বাংলার সংস্কৃতি, ভাষা ও সম্পদ বহিরাগতদের দখলে চলে যাক। স্থানীয় যুবকরা চাকরি-ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছে না, অথচ বাইরের লোকেরা সবকিছু দখল করে নিচ্ছে,” বলেন তিনি।

