নয়াদিল্লি: ভারতের বিদেশনীতি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। শুক্রবার তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের বিদেশনীতি আসলে পুরোটাই কম্প্রোমাইস্ড। ইরানে যুদ্ধের আবহে ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় অপরিশোধিত তেল কেনা। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীতে চিন এবং রাশিয়া ছাড়া আর কোনও দেশের জাহাজ ঢুকতে পারবে না তেল রফতানির জন্য। তাই আমেরিকা ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার তেল কেনার ছাড়পত্র দিয়েছে। এই আবহেই রাহুল গান্ধী মোদীর বিদেশনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, আমেরিকা ৩০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছে, যাতে ভারত রাশিয়ার তেল কিনতে পারে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ এবং অশান্তি। তারপরে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বাধা তৈরি হওয়া। এই পথ দিয়েই বিশ্বের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহণ হয়।
আরও দেখুনঃ ১৬ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘না’! দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে বড় পদক্ষেপ
এই প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের বিদেশনীতি দেশের জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছা থেকে তৈরি হওয়া উচিত। তাঁর মতে, ভারতের ইতিহাস, ভূগোল এবং সত্য ও অহিংসার মতো আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের ভিত্তিতেই বিদেশনীতি গড়ে উঠতে হবে। তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, “আজ যা দেখা যাচ্ছে তা কোনও নীতি নয়, বরং একটি সমঝোতাপূর্ণ ব্যক্তিকে ব্যবহার করার ফল।”
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে। কংগ্রেসের দাবি, বিদেশনীতি নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত কোনও বিদেশি শক্তির অনুমতির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এদিকে একই ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি। তিনি আমেরিকার এই ঘোষণাকে “নব্য-ঔপনিবেশিক ঔদ্ধত্য” বলে মন্তব্য করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত কি এমন কোনও “বানানা রিপাবলিক” যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন অনুমতির প্রয়োজন হবে?
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট তাঁর বক্তব্যে জানান, এই সাময়িক ছাড়ের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বজায় রাখা। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত রাশিয়াকে বড় আর্থিক সুবিধা দেবে না, কারণ এটি মূলত সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের লেনদেনের অনুমতি দেয়। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে আমেরিকা আশা করছে ভারত ভবিষ্যতে মার্কিন তেলের ক্রয় বাড়াবে। তাঁর কথায়, “ভারত আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং আমরা আশা করি ভবিষ্যতে তারা মার্কিন তেল আমদানি বাড়াবে।”
এদিকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই সহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলে।



















