হিমন্ত দাপটে পবনের আগাম জামিনের মেয়াদ খারিজ সুপ্রিমকোর্টে

pawan-khera-anticipatory-bail-supreme-court-assam-case

নয়াদিল্লি: কংগ্রেস নেতা পবন খেরার আগাম জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। (Pawan Khera)অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঞা শর্মার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের মামলায় তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের দেওয়া এক সপ্তাহের আগাম স্থগিত রেখে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, খেরা এখন অসমের সংশ্লিষ্ট আদালতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা চাইতে পারবেন।

বিচারপতি জে.কে. মাহেশ্বরী ও বিচারপতি অতুল এস. চন্দুরকরের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। খেরা তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে যে এক সপ্তাহের ট্রানজিট বেল পেয়েছিলেন, তা সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করে দেয়। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলেছে যে, তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের আদেশ বা সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশ অসমের আদালতের সিদ্ধান্তে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। অসমের সংশ্লিষ্ট আদালত খেরার অ্যান্টিসিপেটরি বেলের আবেদন নিজস্ব যোগ্যতা ও মেধা অনুসারে বিবেচনা করবে।

   

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, “যে আদালত আবেদন শুনবে, তাকে কোনো ট্রানজিট বেল বা অন্য কোনো আদেশ দ্বারা প্রভাবিত হতে হবে না। অর্থাৎ, যখন যথাযথ আদালতে অ্যান্টিসিপেটরি বেলের আবেদন করা হবে, সেই আদালত নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে। উপরোক্ত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আবেদনকারী যথাযথ আদালতে যেতে পারবেন। যদি আদালত বন্ধ থাকে, তাহলে রেজিস্ট্রিতে আবেদন করা যাবে এবং আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এরপর আদালত খেরার আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

আরও দেখুনঃ ‘মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে লেকচার দেওয়ার আগে ঘর সামলান’, বিজেপিকে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ

ঘটনার সূত্রপাত এপ্রিলের শুরুতে। পবন খেরা এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন যে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঞা শর্মার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মিশর ও অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডার পাসপোর্ট রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে নথিপত্রও রয়েছে বলে দাবি করেন। এই অভিযোগের পর রিনিকি ভূঞা শর্মা অসমে এফআইআর দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, খেরা মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে তাঁর এবং পরিবারের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।

অসম পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।খেরা গ্রেফতারের আশঙ্কায় তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে ট্রানজিট অ্যান্টিসিপেটরি বেলের আবেদন করেন। ১০ এপ্রিল তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট তাঁকে এক সপ্তাহের সুরক্ষা দেয়। অসম সরকার এর বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। অসমের যুক্তি ছিল, তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের এই মামলায় এখতিয়ার নেই। সুপ্রিম কোর্ট তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের আদেশে বিস্ময় প্রকাশ করে এবং সেটি স্থগিত করে দেয়।

এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে বড় প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, পবন খেরা মিথ্যা অভিযোগ করে বিতর্ক তৈরি করেছেন এবং এখন আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সময় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস দাবি করছে, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। খেরা শুধু তথ্য তুলে ধরেছেন বলে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, ট্রানজিট বেল শুধু সাময়িক সুরক্ষা দেয়, কিন্তু মূল মামলার বিচারে কোনো প্রভাব ফেলে না। খেরাকে এখন অসমের আদালতে গিয়ে অ্যান্টিসিপেটরি বেলের আবেদন করতে হবে। যদি আদালত বন্ধ থাকে, তাহলে রেজিস্ট্রিতে আবেদন জানানো যাবে।