
নাসিক : তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি টিসিএস-এর নাসিক বিপিও ইউনিটে শুরু হয়েছিল কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও জোর করে ধর্মান্তরণের অভিযোগ। (Nashik TCS)এখন সেই মামলা জড়িয়ে পড়েছে দিল্লির বোমা বিস্ফোরণ তদন্তের সঙ্গে। অভিযুক্ত এইচআর ম্যানেজার নিদা খানের সঙ্গে দিল্লি ব্লাস্টের অভিযুক্ত নেটওয়ার্কের যোগাযোগ পাওয়া যাওয়ায় তদন্তের মোড় ঘুরে গেছে। শুধু অফিসের অভ্যন্তরীণ ঘটনা নয়, এখন এটি বৃহত্তর চক্রান্ত ও উগ্রপন্থী মডিউলের সন্দেহে পরিণত হয়েছে।
ঘটনার শুরু হয়েছিল কয়েক মাস আগে। নাসিকের টিসিএস অফিসে মহিলা কর্মীরা অভিযোগ করেন যে, কিছু সহকর্মী ও টিম লিডার তাদের যৌন হয়রানি করেছে, ব্ল্যাকমেল করেছে এবং জোর করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করেছে। অভিযোগে বলা হয়, হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হত এবং ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হতো। একাধিক মহিলা কর্মী পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
আরও দেখুনঃ হিমন্ত দাপটে পবনের আগাম জামিনের মেয়াদ খারিজ সুপ্রিমকোর্টে
এরপর একাধিক এফআইআর নথিভুক্ত হয়। পুলিশ স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু করে। এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, চিত্র আরও জটিল হয়েছে। মূল অভিযুক্ত নিদা খান, যিনি অফিসের এইচআর ম্যানেজার ছিলেন, এখনও ফেরার। পুলিশ জানিয়েছে, নিদা খান অভিযুক্তদের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের যোগাযোগ করিয়ে দিতেন এবং ঘটনাগুলোকে চাপা দিতে সাহায্য করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, এই ঘটনা ২০২২ সাল থেকে চলছিল। শুধু যৌন হয়রানি নয়, ধর্মীয় উগ্রতা ও ম্যানিপুলেশনের একটি প্যাটার্ন ধরা পড়েছে।সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো নিদা খানের সঙ্গে দিল্লির রেড ফোর্ট ব্লাস্টের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত ডা. শাহিন শাহিদের নেটওয়ার্কের যোগাযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন যে, নিদা খান উগ্রপন্থী মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। ডিজিটাল প্রমাণ, চ্যাট, কল রেকর্ড এবং কন্ট্যাক্ট লিস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, এটি শুধু কর্মক্ষেত্রের হয়রানি নয়, বরং একটি সংগঠিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ যা কর্পোরেট অফিসের ভিতরে কাজ করছিল।দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এখন নাশিক তদন্তে যোগ দিতে পারে। দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, নিদা খান ও ডা. শাহিনের মধ্যে দিল্লিতে বৈঠক হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। এতে ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নেটওয়ার্কের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, শিক্ষিত ও কর্পোরেট চাকরির আড়ালে উগ্রপন্থী কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা।

