পানিহাটিতে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকে কালি ঘিরে তোলপাড়

panihati-evm-ink-bjp-symbol-controversy-west-bengal-elections-2026

কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা রাজ্য। (Panihati EVM)এরই মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে এক বিতর্কিত ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে, যা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটের দিন একটি বুথে ইভিএম মেশিনে বিজেপির প্রতীকের উপর কালি লাগানো ছিল বলে অভিযোগ ওঠে, যার ফলে ভোটাররা বিভ্রান্তির মুখে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটির ওই বুথে সকাল থেকেই ভোটারদের লম্বা লাইন ছিল। ভোট গ্রহণ শুরু হতেই বচসা বাঁধে পানিহাটিতে। বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথকে গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়। তারপরে ঠিকঠাকই চলছিল কিন্তু হঠাৎই কয়েকজন ভোটার লক্ষ্য করেন যে, ইভিএম মেশিনে বিজেপির প্রতীকের বোতামে কালি লেগে রয়েছে, যার ফলে তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে না। এই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন বিজেপির পোলিং এজেন্টরা। তাঁদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা সঠিকভাবে প্রতীক চিনতে না পারেন এবং বিভ্রান্ত হন।

   

আরও দেখুনঃ কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন? জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

এই ঘটনার পরপরই বুথের ভিতরে ও বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের চিফ ইলেকশন এজেন্ট জয় সাহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ, এই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু কর্মী সেখানে জড়ো হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে এবং বচসায় জড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নির্বাচন কর্মীরা। অভিযোগের ভিত্তিতে ইভিএম মেশিনটি পরীক্ষা করা হয় এবং দেখা যায়, বোতামের উপর সত্যিই কালি জাতীয় কিছু লেগে রয়েছে। পরে স্যানিটাইজার ব্যবহার করে সেই দাগ পরিষ্কার করা হয়, যাতে ভোটাররা স্পষ্টভাবে প্রতীক দেখতে পারেন। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ কার্যত থমকে যায় বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনার জেরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে না পারায় অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের দাবি, এটি একটি সামান্য প্রযুক্তিগত বা মানবিক ত্রুটি, যা নিয়ে অযথা রাজনৈতিক রং চড়ানো হচ্ছে।