নন্দীগ্রাম: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম। (statue vandalism)নন্দীগ্রাম প্রত্যেকবারের মতোই এবারেও হাইভোল্টেজ কেন্দ্র তৃণমূল বিজেপির জন্য। সেই নন্দীগ্রামেই ঘটল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। রামনবমীর প্রস্তুতির জন্য মূর্তি তৈরী হচ্ছিল। রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা সেই মূর্তির মাথা কেটে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়েছে উত্তেজনা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তার সমাজ মাধ্যমের পোস্টে এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রামনবমী উপলক্ষে পুজোর আয়োজন চলছিল। নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের ভেটুরিয়া এলাকায়, ১২২ নম্বর বুথের কাছে বাসস্ট্যান্ডে মর্যাদা পুরুষোত্তম প্রভু শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তি তৈরি হচ্ছিল। মূর্তির কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল, কিন্তু গত রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মূর্তির মাথা কেটে নিয়ে চলে যায়।
আরও দেখুনঃফের ২৬/১১ র মত হামলার সম্মুখীন হবে ভারত! বিস্ফোরক পাক হাইকমিশনার
মূর্তিটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাখা ছিল, যাতে সবাই দেখতে পায়। রাতে কাজ বন্ধ করে সবাই বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। সকালে এসে দেখেন মূর্তির মাথা নেই। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। অনেকে বলছেন, এটা শুধু মূর্তি ভাঙার ঘটনা নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসের উপর আঘাত।
নন্দীগ্রামের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন ঘটনা রাজনৈতিক রঙ নিয়ে নেয় স্বাভাবিকভাবেই।বিরোধী দলনেতা এবং নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এটা রাজ্যে চলমান তোষণ নীতির ফল। মমতা ব্যানার্জির সরকারের নির্লজ্জ নিষ্ক্রিয়তা এবং সনাতনীদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। তিনি আরও বলেছেন, এমন ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে পড়েছে।
শুধুমাত্র প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে এসব চলছে। তিনি সনাতনীদের একত্রিত হয়ে এই সরকারকে বিদায় জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। নচেৎ আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।পুলিশ এখনও কোনো গ্রেফতার করেনি। তদন্ত শুরু হয়েছে, কিন্তু স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন যে প্রশাসন ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। নন্দীগ্রামে এর আগেও ধর্মীয় মূর্তি বা পুজো সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে, যা রাজনৈতিক মেরুকরণকে তীব্র করেছে।
২০২১-এর নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি এখানে হেরে গেলেও পরে ভবানীপুরে জিতে এসেছিলেন। এবার শুভেন্দু অধিকারী আবারও নন্দীগ্রাম থেকে লড়ছেন, আর এই ঘটনা তার প্রচারে নতুন জ্বালানি যোগ করেছে।এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি। একদিকে রামনবমীর আনন্দের প্রস্তুতি, অন্যদিকে এমন অপমানজনক ঘটনা।
অনেকে বলছেন, রাজনীতির খেলায় ধর্মকে টেনে আনা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটা বিজেপির হাতে একটা ইস্যু হয়ে উঠবে। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, নন্দীগ্রামের মতো কেন্দ্রে এমন ঘটনা উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। পুলিশকে দ্রুত দোষীদের ধরতে হবে, না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।



















