গোহত্যা-গোমাংস খাওয়া বন্ধের অনুরোধ নাখোদার মৌলানার

nakhoda-masjid-imam-cow-slaughter-statement

কলকাতা: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নাখোদা মসজিদের ইমাম মৌলানা মহম্মদ শফিক কাসমির একটি মন্তব্য (Nakhoda Masjid)ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি ধর্মীয় মহলেও। সম্প্রতি তিনি গো-হত্যা এবং গরুর মাংস ভক্ষণ নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে আইন মেনে চলার আহ্বান, পাশাপাশি মুসলিম সমাজের উদ্দেশে একটি বিশেষ আবেদনও।

   

মৌলানা মহম্মদ শফিক কাসমি বলেন, “গো-হত্যা সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি সরকার জারি করেছে, তা নতুন কোনো আইন নয়। এটি ১৯৫০ সালের একটি আইন, যা সেই সময়েই তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার শুধু সেই আইন কার্যকর করছে।” তাঁর দাবি, এই আইনের আওতায় গরু জবাই করা অত্যন্ত কঠিন এবং কঠোর নিয়মের মধ্যে পড়ে। সেই কারণেই তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তাঁরা যেন গো-হত্যা থেকে বিরত থাকেন এবং স্থায়ীভাবে গরুর মাংস খাওয়াও বন্ধ করেন।

আরও দেখুনঃ হাওড়া-শিয়ালদহ চত্বরে চলছে বুলডোজার! কড়া বার্তা দিলীপের

ইমামের এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মৌলানা কাসমির বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট তিনি আইন মেনে চলার ওপরই জোর দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গো-হত্যা নিয়ে আলাদা আইন রয়েছে। কোথাও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, কোথাও আবার নির্দিষ্ট শর্তে অনুমতি দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গেও পুরনো আইনের ভিত্তিতেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসনের তরফে আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

নাখোদা মসজিদের ইমামের এই মন্তব্যের পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একাংশ মনে করছেন, ধর্মীয় নেতাদের পক্ষ থেকে আইন মেনে চলার বার্তা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে আরেক অংশের বক্তব্য, ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মতামত দেওয়া সবসময়ই সংবেদনশীল বিষয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য আগামী দিনে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসতে পারে। কারণ গো-হত্যা এবং গরুর মাংস নিয়ে বিতর্ক বহুদিন ধরেই দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর দেখা গিয়েছে।

তবে সব বিতর্কের মাঝেও মৌলানা মহম্মদ শফিক কাসমির বক্তব্যের মূল সুর ছিল আইন মেনে চলা এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখা। তিনি স্পষ্টভাবে বোঝাতে চেয়েছেন, কোনো ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বিষয় আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। তাঁর এই মন্তব্য আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।