নির্বাচনী প্রচার শেষ করে ঝাড়গ্রামে এক ঝালমুড়ির দোকানে হঠাৎ করেই ঢুকে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে তিনি দোকান থেকে ঝালমুড়ি খান, পকেট থেকে ১০ টাকার একটি নোট বের করে দোকানদারকে দেন এবং আশপাশে থাকা মহিলা ও শিশুদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন।Mamata Banerjee গোটা ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই এটিকে প্রধানমন্ত্রীর “সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ” হিসেবে দেখলেও, রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে। সোমবার বীরভূমের মুরারইয়ে একটি জনসভা থেকে তিনি এই ঘটনাকে সরাসরি “নাটক” বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, গোটা ঘটনাটিই পূর্বপরিকল্পিত এবং ক্যামেরার সামনে সাজানো এক দৃশ্য। মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত মেলামেশা দেখানোর জন্য একটি কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কালকে দোকানে মাইক ফিট করে ঝালমুড়ি SPG-কে দিয়ে তৈরি করান।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ নিরাপত্তা গোষ্ঠী (SPG)-কেও এই ‘নাটকীয় দৃশ্য’ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এই দাবি ঘিরে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি, তবে বিজেপি শিবির ইতিমধ্যেই এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
মমতা (Mamata Banerjee) আরও কটাক্ষ করে বলেন, “১০ টাকা কখনও পকেটে থাকে ওনার! কত নাটক।” তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা বাস্তব নয় বরং রাজনৈতিক প্রচারের অংশ। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, নির্বাচনের আগে জনসংযোগ বাড়ানোর জন্য এই ধরনের দৃশ্য পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা যায়। অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী দেশের যেখানেই যান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিশে যান, খাবার খান এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। ঝাড়গ্রামের ঘটনাও তারই অংশ। বিজেপির মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাস্তবতা স্বীকার না করে অযথা বিতর্ক তৈরি করছেন।




















