
নয়াদিল্লি: ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বড়সড় রূপরেখা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (India South Korea)দিল্লিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠককে কূটনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ভারসাম্যের প্রেক্ষাপটে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশ মিলিতভাবে এই পরিমাণ ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারে বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। এই লক্ষ্য পূরণে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম হল ‘ইন্ডিয়া-কোরিয়া ফাইন্যান্সিয়াল ফোরাম’ গঠন, যা দুই দেশের মধ্যে আর্থিক প্রবাহ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আরও দেখুনঃ টেরিটোরিয়াল আর্মি কী? ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তিও লেফটেন্যান্ট হতে পারেন, আবেদন করুন
শুধু আর্থিক ক্ষেত্রেই নয়, শিল্প ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়াতেও জোর দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে একটি ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-অপারেশন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যা দুই দেশের শিল্পক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগ বাড়াতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SMEs)-এর জন্য ভারতকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ভারতে কোরিয়ান কোম্পানিগুলির জন্য বিশেষ ‘কোরিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ’ গড়ে তোলা হবে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থাগুলি সহজে ভারতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে পারবে। এর ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিনিময়ও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও, আধুনিক প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করতে ‘ইকোনমিক সিকিউরিটি ডায়ালগ’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যেখানে সাপ্লাই চেইন বিঘ্ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এই উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে একটি হল, আগামী এক বছরের মধ্যে ভারত-কোরিয়া বাণিজ্য চুক্তিকে (Trade Agreement) আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলা হবে। এই আপগ্রেডের ফলে শুল্ক কাঠামো, বিনিয়োগের সুযোগ এবং ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার একটি বড় পদক্ষেপ। প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, উৎপাদন এবং সাপ্লাই চেইন সব ক্ষেত্রেই ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা আগামী দিনে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

