নয়াদিল্লি: রাজধানীর ঠান্ডা আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আর সেই সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল (Mamata Banerjee)। এই উত্তাপের কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে প্রকাশ্য ক্ষোভ সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড়।
এই পরিস্থিতির মাঝেই রাজ্য থেকে আরও একটি RAF ব্যাটালিয়ন এবং রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত টিমকে দিল্লিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ডিএসপি ও এক ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে ২২ জনের একটি রাজ্য পুলিশ টিম রাত ১টা ৪০ মিনিটের বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই দলে রয়েছেন মহিলা ও পুরুষ দু’ধরনের পুলিশ কর্মীই। পাশাপাশি, RAF-এর সেকেন্ড ব্যাটালিয়নও রাজধানীর পথে।
ফের বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে বাঁচল এয়ার ইন্ডিয়ার ড্রিম লাইনার
প্রশ্ন উঠছে হঠাৎ করে কেন দিল্লিতে রাজ্য পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে? রাজনৈতিক মহলের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। দিল্লি পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অভিযোগ করেছেন, বঙ্গভবন ঘিরে যেভাবে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। তাঁর দাবি, দিল্লি পুলিশ শুধু বাইরে নয়, বঙ্গভবনের ভিতরেও অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। আবার অনেকেই মনে করছেন দিল্লিতে মমতা আরও বড় আন্দোলন করতে পারেন এবং তার সুরক্ষার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনও স্বাভাবিক প্রোটোকলের মধ্যে পড়ে না। বরং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। SIR (Special Intensive Revision) ইস্যুতে বাংলায় BLO-দের মৃত্যু, হিয়ারিং সংক্রান্ত হয়রানি এবং ‘জীবন্ত ভোটারকে মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো অভিযোগ তুলে তিনি বিষয়টি জাতীয় স্তরে নিয়ে গিয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটেই রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত টিম পাঠানোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে, মৃত BLO-দের পরিবার এবং তথাকথিত ‘ভুলভাবে মৃত ঘোষিত’ ভোটারদের সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের বিপুল উপস্থিতি কেন, সেই প্রশ্নে দিনভর সরগরম ছিল রাজনৈতিক মহল। বিরোধীদের দাবি, এটি একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শক্তি প্রদর্শন ছাড়া কিছু নয়। এই আবহেই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হতে চলেছে। সেই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত বা বার্তা বেরিয়ে আসে, তার দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। তার আগেই রাজ্য পুলিশের বাড়তি উপস্থিতি দিল্লিতে যে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের ছবি আরও স্পষ্ট করছে, তা বলাই বাহুল্য।




















