ভোট ঘোষণার আগেই ভাতা বাড়িয়ে চমক মমতার

mamata-banerjee-increases-allowance-priests-imams-west-bengal

কলকাতা: আজই ভোটের দিন ঘোষণা করার কথা নির্বাচন কমিশনের। (Mamata Banerjee)এই আবহেই আরও একবার ভাতা বাড়িয়ে দিয়ে রাজ্যবাসীকে চমকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ভোটের মুখে রাজ্যের পুরোহিত ও ইমাম-মুয়াজ্জেমদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ধর্মীয় পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এই মানুষদের মাসিক ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন রাজ্যের পুরোহিত এবং ইমাম-মুয়াজ্জেমরা যে মাসিক ভাতা পেতেন, তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁদের ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে তাঁরা প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

   

আরও দেখুনঃ ৭০০ টিরও বেশি পদের জন্য নিয়োগ করছে HPCL, আবেদনের শেষ তারিখ কাছেই

নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, আমাদের পুরোহিত ও মুয়াজ্জেমদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জীবনকে সচল রাখে।” তিনি আরও বলেন, সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে এই মানুষদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কারণ বর্তমানে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানা ঘোষণা করছে। সেই আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে রাজ্যের মহিলাদের জন্য জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মী ভান্ডারের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা সরাসরি আর্থিক সাহায্য পান। সেই ঘোষণার পর এবার ধর্মীয় পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জন্যও ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন আরও জানান, পুরোহিত ও মুয়াজ্জেমদের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া সমস্ত আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদন যাচাই করে দ্রুত ভাতার সুবিধা দেওয়া হবে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন মন্দির ও মসজিদের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।