নিরাপদ নয় মমতা গড় ভবানীপুর! কী বলছে ভোটের অংক

কলকাতা: ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। (Bhabanipur)কিন্তু এবার পরিস্থিতি যেন খানিকটা বদলাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক জমি আরও একবার পোক্ত করতে তিনি ভবানীপুর ...

By Sudipta Biswas

Published:

Updated:

Follow Us
mamata-banerjee-bhabanipur-nomination-election-challenge-west-bengal

কলকাতা: ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। (Bhabanipur)কিন্তু এবার পরিস্থিতি যেন খানিকটা বদলাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক জমি আরও একবার পোক্ত করতে তিনি ভবানীপুর থেকেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই কেন্দ্র আর আগের মতো “নিরাপদ” নেই।

২০১৬ সালের পর থেকে ভবানীপুরে একটি নির্দিষ্ট ভোট প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ ভোট ধারাবাহিকভাবে তৃণমূল বিরোধী শিবিরে গেছে কখনও কংগ্রেস, কখনও বাম, আবার কখনও বিজেপির ঝুলিতে। গড় ভোটদান প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ভোটের দিন প্রায় ১.২ লক্ষ ভোটার অংশ নেন। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ ভোটার ঐতিহ্যগতভাবেই তৃণমূল বিরোধী বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ কাঠামোগতভাবে এই কেন্দ্রে একটি বড় অংশের ভোট তৃণমূলের বিরুদ্ধে রয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ মিজোরামে টুলুঙ্গা-জেজের মূর্তি, খুদে ফুটবলারদের অনুপ্রেরণায় বড় উদ্যোগ

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন। ভবানীপুরে প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোটার গুজরাটি, পাঞ্জাবি ও হিন্দিভাষী সম্প্রদায়ের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অংশের অনেকেই তৃণমূলের তথাকথিত “বাংলা-কেন্দ্রিক” রাজনীতিতে নিজেদের কিছুটা বিচ্ছিন্ন বলে মনে করেন। ফলে ভোটের সমীকরণে এই ফ্যাক্টরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলও নতুন ইঙ্গিত দিয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা অংশে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান নেমে আসে মাত্র ৮,০০০ ভোটে। শুধু তাই নয়, ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এই ফলাফল রাজ্যের শাসকদলের কাছে সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এবার সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৬,০০০ নাম বাদ পড়া। এই সংখ্যা রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই তালিকা সংশোধন ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে।

রাজনৈতিক লড়াই আরও জমে উঠতে পারে জাতীয় স্তরের নেতাদের প্রচারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক বা দুটি বড় সভা এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণাত্মক প্রচার এই কেন্দ্রে সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে তৃণমূল শিবিরও আত্মবিশ্বাসী। তাদের দাবি, ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখনও অটুট এবং উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিতেই তারা ফের জয় ছিনিয়ে আনবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google