‘সিংহাসনে ভাঁড়!’ শাহ কে কটাক্ষ করে চার্জশিট মহুয়ার

কলকাতা: ‘সিংহাসনে জোকার বসে আছে’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে ঠিক এমনটাই কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। (Mahua Moitra)পেশ করলেন চার্জশিট। নির্বাচনের আগে কলকাতা সফরে এসে…

mahua-moitra-attack-amit-shah-bengalis-west-bengal-politics

কলকাতা: ‘সিংহাসনে জোকার বসে আছে’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে ঠিক এমনটাই কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। (Mahua Moitra)পেশ করলেন চার্জশিট। নির্বাচনের আগে কলকাতা সফরে এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলেন অমিত শাহ। ঠিক একই দিনে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সঙ্গে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং আরও এক সাংসদ কীর্তি আজাদ।

মহুয়া মৈত্র তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই কটাক্ষ করে বলেন, “যখন কোনও ভাঁড় সিংহাসনে বসে, তখন সে রাজা হয় না, বরং পুরো প্রাসাদটাই সার্কাসে পরিণত হয়।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি বাংলার মানুষদের বিরুদ্ধে একপ্রকার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছেন শাহ, যা অত্যন্ত অপমানজনক।

   

আরও দেখুনঃ ভয়ে কাঁপছে পাক-চিন! ৪৪৫ কোটি টাকায় রাশিয়ার টুঙ্গুস্কা সিস্টেম কিনছে ভারত

মহুয়া বলেন বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের বারবার ‘বাংলাদেশি’ বা ‘রোহিঙ্গা’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনারা প্রথমে আমাদের অপমান করেছেন, তারপর আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন, এরপর আমাদের অপরাধী বানানোর চেষ্টা করছেন এবং শেষে আমাদের হয়রানি করছেন।” তাঁর দাবি, এই ধরনের রাজনৈতিক ভাষ্য শুধুমাত্র বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলার সাধারণ মানুষকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তাঁর মতে, কোনও রাজনৈতিক দল বা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা উচিত, কিন্তু গোটা একটি সম্প্রদায় বা রাজ্যের মানুষকে টার্গেট করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি এই তথাকথিত ‘চার্জশিট’-এর কোনও উত্তর দেবেন না। বরং তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, যে ব্যক্তি নিজেই অতীতে আইনি বিতর্কের মুখে পড়েছেন, তাঁর কাছ থেকে এই ধরনের মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য। যদিও এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং বিরোধী শিবিরের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের কড়া ভাষার ব্যবহার আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। কারণ, বাংলার নির্বাচন বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং প্রতিটি দলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট যে, বাংলার রাজনৈতিক লড়াই এখন আর শুধুমাত্র উন্নয়ন বা প্রশাসনিক ইস্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তা ধীরে ধীরে পরিচয় রাজনীতি এবং আবেগের লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের উপর এর প্রভাবও ক্রমশ বাড়ছে।