কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলার শুনানিতে নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Kunal Ghosh)। এই নজির বিহীন ঘটনায় মমতাকে একশোতে পাঁচশো নম্বর দিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। তিনি বলেলেন যেভাবে রাজ্যের মানুষের হয়ে আজ তিনি সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন তা নজির বিহীন এবং বাংলার মানুষও মমতাকে সাধুবাদ দিচ্ছে।
কুনাল আরও বলেন যে মমতা বন্দোপাধ্যায় আজ আদালতে যে সমস্যাগুলি তুলে ধরেছেন তার মান্যতা দিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করে বলেছেন, সোমবারের মধ্যেই সমস্ত নথি নিয়ে আসতে হবে এবং মমতা বন্দোপাধ্যায়ের করা প্রশ্নগুলির জবাব দিতে হবে। মমতা নিজের দায়ের করা মামলায় (আইটেম নম্বর ৩৭) সরাসরি আর্গুমেন্ট পেশ করার অনুমতি পেয়ে তিনটি মূল বিষয় তুলে ধরেছেন, যা গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভকে স্পর্শ করছে।
SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা নির্বাচন কমিশনের, দাবি তৃণমূলের
প্রথমত, লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি (যৌক্তিক অসঙ্গতি) ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত ১.৩৬ কোটিরও বেশি ভোটারের কারণ স্পষ্ট করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। মমতা বললেন, নামের বানানের ছোট ভুল, বিবাহের পর সারনেম পরিবর্তন, বাড়ি বদল বা পুরনো তালিকার সঙ্গে মিল না হওয়া এসব সাধারণ জীবনের ঘটনাকে ‘অসঙ্গতি’ বলে চিহ্নিত করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে।
এতে বয়স্ক, অসুস্থ ও দূরের গ্রামের মানুষরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি দাবি করলেন, এই প্রক্রিয়া মূলত নাম মুছে ফেলার জন্য, নতুন নাম যোগ করার জন্য নয়।দ্বিতীয়ত, মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড বা অন্যান্য স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেটকে প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। মমতা অভিযোগ করলেন, কমিশন এসব নথি অগ্রাহ্য করছে, যা ভোটারদের অধিকার লঙ্ঘন।
তিনি বললেন, উপলব্ধ নথি দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করা উচিত, শুনানিতে ডেকে পাঠানো নয়।তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ৮,৩০০ মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ। মমতা বললেন, এই নিয়োগ রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই করা হয়েছে, এবং এরা সাংবিধানিকভাবে কোনও স্বীকৃত পদ নয়।
তিনি দাবি করলেন, এদের বিজেপি-শাসিত রাজ্য থেকে আনা হয়েছে এবং SIR প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছে, যা ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। এই শুনানির পরেই আদালতের তরফ থেকে পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে এর আগেও নির্বাচন কমিশনকে অনেক সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে সোমবারেই ফাইনাল শুনানি হবে এবং এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে জবাব দিতে হবে।




















