‘কোনো অনুপ্রবেশ হয়নি’, অরুণাচলে চিনা আগ্রাসনের দাবি খারিজ করলেন কিরেন রিজিজু

নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশে চিনা সেনা বা পিএলএ (PLA)-র অনুপ্রবেশের দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। মঙ্গলবার তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতীয় ভূখণ্ডে কোনো…

Kiren Rijiju Denies Chinese PLA Intrusion in Arunachal Pradesh

নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশে চিনা সেনা বা পিএলএ (PLA)-র অনুপ্রবেশের দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। মঙ্গলবার তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতীয় ভূখণ্ডে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। সীমান্ত চিহ্নিতকরণ বা সীমানা নির্ধারণের স্পষ্ট অভাব থাকায় দুই দেশের সেনারই একে অপরের এলাকায় ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটে, যা মূলত ‘ট্রান্সগ্রেশন’ বা সীমান্ত লঙ্ঘন, ‘অনুপ্রবেশ’ নয়। (Kiren Rijiju Denies Chinese PLA Intrusion in Arunachal Pradesh)

ঠিক কী দাবি উঠেছিল?

অরুণাচলের আপার সুবনসিরি জেলার একটি উপজাতি সংগঠন দাবি করেছিল যে, গত ছয় বছর ধরে চিনা সেনা তাদের পৈতৃক কৃষিজমি ও চারণভূমি দখল করে রেখেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এই খবরের সত্যতা যাচাইয়ের দাবিও তোলা হয় বিভিন্ন মহলে।

   

কী বললেন কিরেন রিজিজু?

টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরুণাচল পশ্চিমের সাংসদ কিরেন রিজিজু বলেন, “কোনো অনুপ্রবেশ হয়নি। সীমানা অস্পষ্ট থাকার কারণেই দুই দেশের সেনার ক্ষেত্রে এমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এটাকে অনুপ্রবেশ বলে ভুল করা উচিত নয়।” তিনি আরও বলেন, ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত পুরোপুরি চিহ্নিত না থাকায় দুই দেশেরই ভিন্ন ভিন্ন ধারণা কাজ করে, যার ফলে মাঝে-মধ্যে দুই দেশের জওয়ানরাই একে অপরের সীমানায় চলে যান।

সেনাবাহিনীর সাফ বক্তব্য

এদিকে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও এই ধরনের খবরকে “ভিত্তিহীন ও ভুল” বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এএনআই (ANI)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনার বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “আমরা কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছি যেখানে চিনা সেনার অনুপ্রবেশ ও ক্যাম্প তৈরির দাবি করা হয়েছে। এই সব প্রতিবেদন ভিত্তিহীন।”

সীমান্ত পরিকাঠামোয় জোর মোদী সরকারের

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অতীতে পূর্ববর্তী সরকারগুলির বিরুদ্ধে অরুণাচলের সীমান্ত পরিকাঠামোকে অবহেলার অভিযোগ এনেছেন। তাঁর কথায়, নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুবিধা বাড়াতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ভারত-চিন সীমান্তে বর্তমান পরিস্থিতি

সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল তবে সংবেদনশীল। গত মাসে বেইজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে ৩১তম ‘ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন’ (WMCC)-এর বৈঠক হয়েছে, যা গঠনমূলক ছিল বলেই জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

Outgoing সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীও জানিয়েছেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বর্তমানে স্থিতিশীল। দুই দেশের সেনা প্রতি বছর প্রায় ১,১০০টি গ্রাউন্ড-লেভেল আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর চেষ্টা করে। এছাড়া হটলাইন ও ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে ছোটখাটো সমস্যাগুলোর সমাধান করা হয়। ভারত তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পূর্ণ সতর্ক ও সক্ষম বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।