‘অদিতি-দেবরাজের হয়ে সওয়াল কেন?’ চাকরি চুরি মামলা তুলে বিকাশকে বিঁধলেন কল্যাণ

কলকাতা: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। এবার তাঁর নিশানায় সিপিএম নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। দুর্নীতির অভিযোগে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
kalyan-banerjee-targets-bikas-ranjan-bhattacharya

কলকাতা: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। এবার তাঁর নিশানায় সিপিএম নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামীর হয়ে আদালতে সওয়াল করাকে কেন্দ্র করে বিকাশ ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

এক্স হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, যিনি নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরেন, তিনিই আবার দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এবং তাঁর স্বামীর হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই ব্যক্তি একদিকে আদালতে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগকে “দুর্নীতিগ্রস্ত প্রক্রিয়া” বলে দাবি করছেন, আবার অন্যদিকে একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্তদের পক্ষেও দাঁড়াচ্ছেন এই অবস্থান কতটা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য?

   

আরও দেখুনঃ আফগানিস্তানের শিশুদের স্বাস্থ্য সেবায় টিকা তৈরির উপকরণ পাঠিয়ে বড় চাল মোদী সরকারের

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, “পেশাগত দায়িত্ব” সবসময় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায় না, বিশেষ করে যখন বেছে বেছে এক পক্ষকে নিশানা করা হয় এবং অন্য পক্ষের হয়ে সওয়াল করা হয়। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে কোনও “বোঝাপড়া” রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কল্যাণ।

এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূলের একাংশ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলছে, বিরোধীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিলেও বাস্তবে আদালতে গিয়ে একই ধরনের মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষেই দাঁড়াচ্ছেন। ফলে তাঁদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

অন্যদিকে সিপিএম এবং আইনজীবী মহলের একাংশ এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছে। তাঁদের বক্তব্য, একজন আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব হল আইনের চোখে প্রত্যেক অভিযুক্তের হয়ে সওয়াল করার অধিকার নিশ্চিত করা। কোনও আইনজীবী কোনও মামলায় কার পক্ষে দাঁড়াবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ করা ঠিক নয়। কারণ আদালতে প্রতিনিধিত্ব করা মানেই অভিযুক্তের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা নয়।

প্রবীণ আইনজীবীদের একাংশ মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় বিচারব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হল প্রত্যেক অভিযুক্তের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার। ফলে কোনও রাজনৈতিক নেতা বা জননেতার হয়ে আদালতে দাঁড়ানোকে রাজনৈতিক সমর্থনের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক শুধুমাত্র আইনি পেশার নৈতিকতা নিয়ে নয়, বরং বর্তমান বাংলার রাজনৈতিক মেরুকরণেরও প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ মামলা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়েছে। সেই আবহে আদালত, আইনজীবী এবং রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন উঠছে। অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামীকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। যদিও মামলাটি এখনও বিচারাধীন এবং আদালতে তার শুনানি চলছে। ফলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলেই আইনি মহলের বক্তব্য।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google