মামাবাড়ি বিতর্কে মুখ খুললেন হুমায়ুন

কলকাতা: বালিগঞ্জে নিজের মামাকে প্রার্থী করে ফের রাজনৈতিক বিতর্কের (Humayun Kabir)কেন্দ্রে জন উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ূন কবির। পরিবারতন্ত্র, ধর্মীয় রাজনীতি এবং প্রার্থী বাছাই এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
humayun-kabir-ballygunge-candidate-explanation

কলকাতা: বালিগঞ্জে নিজের মামাকে প্রার্থী করে ফের রাজনৈতিক বিতর্কের (Humayun Kabir)কেন্দ্রে জন উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ূন কবির। পরিবারতন্ত্র, ধর্মীয় রাজনীতি এবং প্রার্থী বাছাই এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যখন তাঁকে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে, তখন সোজাসাপ্টা ভাষায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন হুমায়ূন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোনও পারিবারিক স্বার্থ বা ধর্মীয় পক্ষপাত নেই, বরং পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে বালিগঞ্জের জনসংখ্যাগত বাস্তবতার উপর।

কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ূন কবির বলেন, “বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশ। সেই কারণেই আমি একজন মুসলিম প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছি।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থী আবুল হাসান একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার এবং পেশাগত জীবনে তিনি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। হুমায়ূনের কথায়, “আমি এমন একজন মানুষকে প্রার্থী করেছি যিনি প্রশাসন বোঝেন, শৃঙ্খলা বোঝেন এবং এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন।”

   

১ বছরে ৬ হাজার কোটির বেশি চাঁদা তুলেছে বিজেপি

তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই কারণে যে, আবুল হাসান হুমায়ূনের মামা। পরিবারতন্ত্রের অভিযোগে তাঁকে বিদ্ধ করছেন বিরোধীরা। এই প্রসঙ্গে হুমায়ূন বলেন, “আমি বিজেপি বা তৃণমূল দু’দলকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি। তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। প্রার্থী আমার আত্মীয় হলেই যে তিনি অযোগ্য হয়ে যান, তা নয়। যোগ্যতা থাকলেই আমি কাউকে সামনে আনব।”

নিশা চ্যাটার্জিকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত নিয়েও মুখ খুলেছেন জন উন্নয়ন পার্টির প্রধান। তিনি স্পষ্ট করে জানান, নিশাকে বাদ দেওয়ার কারণ তাঁর ভাইরাল ভিডিও। হুমায়ূনের কথায়, “ওই খোলামেলা পোশাকে ভিডিওর কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি।” একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নিশা হিন্দু বলেই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

ধর্মীয় ভারসাম্য নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন হুমায়ূন কবির। তিনি জানান, তাঁর দল রাজ্যের প্রায় ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে মাত্র ৯০টি আসনে মুসলিম প্রার্থী থাকবেন, বাকি ১১০টি আসনে থাকবেন হিন্দু প্রার্থীরা। তাঁর কথায়, “আমার দলে অনেক হিন্দু প্রার্থী থাকবেন, আপনারা নিজেরাই দেখবেন। আমি কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নই।”

এই বক্তব্যের পরেও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থামেনি। বিরোধীদের একাংশের দাবি, পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলেও নিজের আত্মীয়কে প্রার্থী করা হুমায়ূনের দ্বিচারিতার প্রমাণ। আবার কেউ কেউ বলছেন, জনসংখ্যার অঙ্ক তুলে ধরে প্রার্থী বাছাই করা আদতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকেই উসকে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ূন কবির নিজেকে বিজেপি ও তৃণমূলের বাইরে এক বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। কিন্তু সেই পথে হাঁটতে গিয়ে তাঁর সিদ্ধান্তগুলি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে বালিগঞ্জের মতো সংবেদনশীল ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এই প্রার্থী নির্বাচন ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। সব মিলিয়ে, মামাকে প্রার্থী করার ব্যাখ্যা দিয়ে বিতর্ক সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও হুমায়ূন কবিরের এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ধর্ম, পরিবারতন্ত্র ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google