সোনাম ওয়াংচুক কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর

গুয়াহাটি: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যুবকদের প্রতিবাদ নিয়ে আলোচনা চলছে (Himanta Biswa Sarma)। প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘জেন জেড’ প্রতিবাদ দেশ গড়েছে নাকি অরাজকতা ছড়িয়েছে এই প্রশ্ন উঠছে বার বার। অসমের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
himanta-biswa-sarma-sonam-wangchuk-genz-protests

গুয়াহাটি: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যুবকদের প্রতিবাদ নিয়ে আলোচনা চলছে (Himanta Biswa Sarma)। প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘জেন জেড’ প্রতিবাদ দেশ গড়েছে নাকি অরাজকতা ছড়িয়েছে এই প্রশ্ন উঠছে বার বার। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি বলেছেন, “আমাদের প্রতিবেশী রাজ্যে জেন জেড প্রতিবাদ হয়েছে, তারা কি দেশ গড়েছে নাকি অরাজকতায় পুড়িয়ে দিয়েছে?”

তাঁর এই মন্তব্য লাদাখের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) এর অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে। হিমন্ত তার মন্তব্যে সোনামকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন এবং স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে লাদাখের পরিস্থিতির জন্য দায়ী একমাত্র সোনাম। তিনি লাদাখের মানুষকে উস্কে দিয়েছেন আন্দোলনের জন্য।

   

AI দিয়ে সজ্জিত ড্রোন ফোর্স তৈরি করছে ভারতীয় সেনা

ওয়াংচুক এখন রাজস্থানের যোধপুর জেলে বন্দি, এবং তাঁর মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে অনেকে।২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লাদাখে রাজ্যের মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ শুরু হয়। সোনাম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ অনশন চলছিল। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদ হিংসাত্মক রূপ নেয়। লে শহরে বিক্ষোভকারীরা বিজেপি অফিসে আগুন লাগায়, গাড়ি পোড়ায় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে চারজনের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক আহত হন।

ওয়াংচুক নিজে এই হিংসার নিন্দা করেন এবং বলেন, “এটি যুবকদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ, এক ধরনের জেন জেড বিপ্লব।” তিনি অনশন ভাঙেন এবং শান্তির আহ্বান জানান।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে যে, ওয়াংচুকের বক্তব্যে আরব স্প্রিং এবং নেপালের জেন জেড প্রতিবাদের উল্লেখ করে তিনি উস্কানি দিয়েছেন। নেপালে ২০২৫ সালে জেন জেড যুবকদের প্রতিবাদ সরকার পতন ঘটিয়েছে, যা অরাজকতা এবং অস্থিরতা নিয়ে এসেছে।

লাদাখ প্রশাসন বলে, ওয়াংচুকের কথায় যুবকরা উত্তেজিত হয়ে হিংসা করেছে। ফলে ২৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে এনএসএ-এর অধীনে গ্রেফতার করা হয় এবং লাদাখ থেকে সরিয়ে জোধপুর জেলে রাখা হয়। প্রশাসনের দাবি, এটি জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।ওয়াংচুকের স্ত্রী গিতাঞ্জলি জে অ্যাঙ্গমো সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন যে, এই গ্রেফতার অবৈধ এবং মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, স্বামী হিংসার বিরোধী এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নেতা।

লাদাখের মানুষ রাজ্যের মর্যাদা চান যাতে স্থানীয় চাকরি, জমি এবং সংস্কৃতি রক্ষা পায়। ২০১৯ সালে আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের পর লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়েছে, কিন্তু প্রতিশ্রুত উন্নয়ন এবং স্বায়ত্তশাসন না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। যুবকরা মনে করছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কাজ করছে না।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google