মীরাট: মীরাটে AIMIM এর উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সভাপতি হাজি শওকত আলির একটি বক্তৃতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে (Haji Shaukat Ali)। মঙ্গলবার মীরাটে এক জনসভায় শওকত আলি বলেন, “যারা মুসলিমদের এনকাউন্টার করে, তাদেরও একইভাবে এনকাউন্টার করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “শুধু ১১ জন এমএলএ দিন, ১১১ জন নয়। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি, কোনো মুসলিমকে যদি এনকাউন্টার করা হয়, তাহলে যে করবে, তাকেও এনকাউন্টার করা হবে।”
তিনি বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসা রক্ষায় সবাইকে একজোট হতে হবে। তিনি উদাত্ত কণ্ঠে স্লোগান দেন “এক লাঠি, এক পতাকা, এক নেতা”। এই বক্তব্যকে অনেকে উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, এই ধরনের কথাবার্তা সাম্প্রদায়িক বিভেদ বাড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার অনেকেই বলেছেন কোনও কারণ ছাড়া এনকাউন্টার করা হয়না। দুষ্কৃতীদেরই এনকাউন্টার করা হচ্ছে। রাজ্য সভাপতি কি তবে দুষ্কৃতীদের সমর্থনে সওয়াল করছেন এমনটাও বলছেন অনেকে।
আরও দেখুনঃ নতুন শিক্ষকের সন্ধানে কেরালা ব্লাস্টার্স ! দৌড়ে এগিয়ে ওয়েস্টউড
শওকত আলি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, উত্তরপ্রদেশে মুসলিম যুবকদের বিরুদ্ধে কথিত ফেক এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যই তিনি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, “আমাদের মসজিদ-মাদ্রাসা রক্ষা করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কেউ যদি আমাদের ক্ষতি করে, তাহলে আমরাও ছাড়ব না।” তাঁর এই বক্তব্য ভাইরাল হয়ে যায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
এআইএমআইএম নেতার এই মন্তব্যের পর বিজেপি নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিজেপির মুখপাত্ররা বলছেন, এটি স্পষ্টভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার হুমকি এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বক্তব্যটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের কিছু নেতা বলছেন, মুসলিম যুবকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।
উত্তরপ্রদেশে গত কয়েক বছর ধরে কথিত এনকাউন্টারের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক চলছে। সরকারের দাবি, এগুলো অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ। কিন্তু বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এতে নিরীহ যুবকরা শিকার হচ্ছেন। শওকত আলির বক্তব্য এই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, “যদি আমাদের ১১ জন বিধায়ক হয়, তাহলে আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করব।”


