কলকাতা:পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থানা এলাকায় একটি ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। (Habra crude bomb)সোমবার ভোর ৪টে ১০ মিনিট নাগাদ পুলিশের কাছে খবর আসে যে, হাবড়া পুলিশ স্টেশনের অন্তর্গত একটি ভোটকেন্দ্রে সন্দেহজনক ক্রুড বোমা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তৎক্ষণাৎ কোয়িক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং স্থানীয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।তদন্ত করে দেখা যায়, দক্ষিণ সরাই জুনিয়র বেসিক স্কুলের বুথ নম্বর ৪০/৪৩-এ ৮টি স্থানীয়ভাবে তৈরি সুতলি বোমা (ক্রুড বোমা) লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
এই বোমাগুলো ভোটকেন্দ্রের ভিতরে বা আশপাশে লুকোনো ছিল, যা ভোটগ্রহণের দিন বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারত। পুলিশের কোয়িক রেসপন্স টিম দ্রুত এলাকায় জড়ো হওয়া জনতাকে সরিয়ে দেয়, পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল (বিডিডিএস) কে তাৎক্ষণিক খবর দেওয়া হয়। সকাল ১১টা নাগাদ বিডিডিএস টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্কতার সঙ্গে ৮টি বোমা একটি বালতিতে জল ভরে নিয়ে যায়।
আরও দেখুনঃ দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রাক্কালে পুলিশি ধরপাকড়, রাজ্যে গ্রেপ্তার বেড়ে ১৫৪৩
পরে সেগুলো হাবড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বোমাগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। এগুলো বিস্ফোরিত হলে ভোটকেন্দ্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত এবং নিরীহ ভোটারদের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।এই ঘটনায় হাবড়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এটি কোনো বড় সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনার অংশ কি না।

নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসন এখন পুরো এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়িয়েছে।হাবড়া থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কারা বোমাগুলো লুকিয়ে রেখেছিল, কী উদ্দেশ্যে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় সূত্র এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হবে।
এই ঘটনা বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে রাজ্যজুড়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। প্রথম দফায় মুর্শিদাবাদ, বসিরহাটসহ বিভিন্ন জায়গায় বোমাবাজি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এখন হাবড়ায় বুথের ভিতরে বোমা পাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের উদ্বেগ বেড়েছে। কমিশন ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং সংবেদনশীল বুথগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা করছে।
সাধারণ ভোটাররা এখন প্রশ্ন তুলছেন ভোটকেন্দ্রে এমন বিপজ্জনক জিনিস কীভাবে লুকিয়ে রাখা সম্ভব হল? প্রশাসনের নজরদারি কি যথেষ্ট ছিল না? রাজনৈতিক দলগুলিও পরস্পরকে দোষারোপ করতে শুরু করেছে। বিজেপি বলছে, তৃণমূলের গুন্ডারাজের ফল এটা। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি বিজেপির ষড়যন্ত্র হতে পারে।



















