পাহাড়ে নিয়োগ দুর্নীতি তে কড়া সিদ্ধান্ত আদালতের

কলকাতা: পাহাড়ের শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠছিল (GTA teacher recruitment corruption)। অবশেষে সেই দুর্নীতির প্রাচীর ভেঙে বড় রায় দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। গোর্খা ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
gta-teacher-recruitment-corruption-high-court-verdict

কলকাতা: পাহাড়ের শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠছিল (GTA teacher recruitment corruption)। অবশেষে সেই দুর্নীতির প্রাচীর ভেঙে বড় রায় দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-র অধীন স্কুলগুলিতে অনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩১৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এই রায়ের ফলে পাহাড়ের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগল, সঙ্গে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোড়ন। কারণ, এই দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের নাম। পাশাপাশি উঠে এসেছে প্রান্তিক চক্রবর্তী এবং রাজন্যা হালদারের মতো নামও, যাঁরা তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা-নেত্রী হিসেবে পরিচিত।

   

আসন্ন বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে চমক দেবে মোদী সরকার

জিটিএ-র অধীন দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং অঞ্চলের স্কুলগুলিতে ২০১৯ সাল থেকে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়ম না মেনে, ইন্টারভিউ ছাড়াই হাজারের বেশি নিয়োগ করা হয় বলে দাবি। এই প্রক্রিয়ায় টাকার লেনদেন, রাজনৈতিক চাপ এবং পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মামলাকারীরা আদালতে জানান, যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন, আর অযোগ্যরা চাকরি পেয়েছেন। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু দীর্ঘ শুনানির পর এই নিয়োগগুলিকে অবৈধ ঘোষণা করে চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়মকে অপমান করে।

এই দুর্নীতির মূলে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব। অভিযোগের তির সরাসরি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের দিকে। তাঁর নাম এফআইআর-এ উল্লেখিত হয়েছে, সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জিটিএ নেতা বিনয় তামাং প্রমুখ। তৃণাঙ্কুরের ভূমিকা নিয়ে আদালতে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, প্রান্তিক চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী রাজন্যা হালদারের নামও জড়িয়েছে এই প্রসঙ্গে।

প্রান্তিক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেতা, আর রাজন্যা একসময় দলের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁরা দু’জনেই আরজি কর কাণ্ডের পর দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। কিন্তু জিটিএ দুর্নীতির তদন্তে তাঁদের নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে। সম্প্রতি রাজন্যা-প্রান্তিকের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। দুর্গাপুজোয় বিজেপি নেতাদের অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল ফুলবদল অনিবার্য।

কিন্তু শেষমেশ বিজেপির অন্দরের অন্তর্কলহে সেই যোগদান স্থগিত হয়ে যায়। বিজেপির একাংশের বক্তব্য, ‘তৃণমূলের উচ্ছিষ্ট’ নেওয়া ঠিক নয়। এই ঘটনা বিজেপি নেতৃত্বের দূরদর্শিতাকে প্রশংসা কুড়িয়েছে অনেকের কাছে। কারণ, দুর্নীতিতে নাম জড়ানো ব্যক্তিদের দলে নিলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের শুদ্ধিকরণের বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google