নিজের কেন্দ্র ছাড়তে পারবেন না প্রার্থীরা, কমিশনের নতুন গাইডলাইন

Nandigram Police Observer Change
EC Cracks Down on Candidate Movement with Fresh Guidelines

আগামিকাল প্রথম দফার নির্বাচনকে (Election Commission) ঘিরে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও প্রার্থীই তাঁর নিজের বিধানসভা এলাকা ছেড়ে বাইরে যেতে পারবেন না। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে ভোট চলাকালীন নিজের কেন্দ্রেই অবস্থান করতে হবে। ভোটের সময় এলাকায় উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা বজায় রাখা প্রার্থীদের দায়িত্ব বলেই মনে করছে কমিশন। একই সঙ্গে, কোনও প্রকার বিশৃঙ্খলা, গোলমাল বা অশান্তিতে জড়ানো থেকেও প্রার্থীদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের(Election Commission) একাধিক সূত্রের দাবি, ভোটের সময় অনেক ক্ষেত্রেই প্রার্থীরা অন্যত্র গিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন বা দলের অন্য কেন্দ্রের কাজে যুক্ত হন, যার ফলে নিজের এলাকায় প্রশাসনিক নজরদারি কমে যেতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই এবার থেকে কড়া নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। প্রার্থীরা যেন নিজেদের কেন্দ্রের ভোট প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকেন এবং কোনও ধরনের অনিয়ম হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। বিশেষ করে প্রথম দফার নির্বাচনে যেসব এলাকায় ভোট হচ্ছে, সেগুলিকে ‘সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কমিশন চাইছে, কোনওভাবেই যাতে ভোটাররা আতঙ্কিত না হন এবং নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

   

এছাড়াও, নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ভোট চলাকালীন প্রার্থীদের আচরণও নজরে রাখা হবে। যদি কোনও প্রার্থী কমিশনের নির্দেশ অমান্য করেন বা অশান্তি তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপও করা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই নির্দেশ রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যেমন প্রার্থীদের গতিবিধির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের সময় প্রার্থীদের নিজেদের এলাকায় উপস্থিত থাকা ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে এবং কোনও অভিযোগ উঠলে দ্রুত তা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।