নয়াদিল্লি: তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে (Delimitation Bill) দল ডিলিমিটেশন বিল প্রস্তাবের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। দলের ২২ জন লোকসভা সাংসদ ও ৮ জন রাজ্যসভা সাংসদ এই বিলকে সমর্থন করায় সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত এনডিএ জোটকে সাংবিধানিক সংশোধনীর ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা দিতে পারে।ডিলিমিটেশন বিল লোকসভা ও বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে জড়িত। ২০২৬ সালের জনগণনার পর এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। দক্ষিণের অনেক রাজ্য, বিশেষ করে তামিলনাড়ু, এতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কারণে আসন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছিল।
কিন্তু ডিএমকে-র এই সমর্থন দক্ষিণ-উত্তরের রাজনৈতিক বৈষম্য কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদি ডিএমকে ছাড়াও এনসিপি (এসপি)-র সমর্থন পাওয়া যায়, তাহলে লোকসভায় এনডিএ-র শক্তি বেড়ে দাঁড়াবে ৩৫৩ জন সাংসদে। এটি দুই-তৃতীয়াংশের (৩৬০) মাত্র ৭ সাংসদ কম।
আরও দেখুনঃ ‘মোদী চাইলে ২০২৫ এ পাকিস্তান বধ করতে পারতেন!’ বিস্ফোরক ইমরান ভগিনী
রাজ্যসভায় তো এনডিএ-র ১৫২ জনের সঙ্গে ডিএমকে-র ৮ জন যোগ হলে মোট ১৬০ জন হয়, যা দুই-তৃতীয়াংশের (১৫৮) উপরে। অর্থাৎ সাংবিধানিক সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনডিএ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, ডিএমকে-র এই সিদ্ধান্ত কৌশলগত। দলটি দীর্ঘদিন ধরে দ্রাবিড় আদর্শ ও দক্ষিণ ভারতের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে আসছে।
ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় যদি দক্ষিণের রাজ্যগুলোর স্বার্থ সুরক্ষিত হয়, তাহলে ডিএমকে তাতে সমর্থন দিতে পারে। স্ট্যালিনের দল মনে করছে, কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতা করে দক্ষিণের জন্য আরও বেশি অনুদান ও প্রকল্প আনা সম্ভব।তবে এই সিদ্ধান্ত দলের অভ্যন্তরেও বিতর্ক তৈরি করেছে। কিছু নেতা মনে করেন, উত্তর ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাবে।
ডিএমকে-র একাংশ এখনও এই বিলের বিরোধিতা করছে। কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এই সমর্থনকে ‘এনডিএ-র সঙ্গে আপস’ বলে সমালোচনা করেছে।এনডিএ শিবির অবশ্য এই উন্নয়নকে স্বাগত জানিয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, ডিলিমিটেশন একটি জাতীয় প্রয়োজন। জনসংখ্যা অনুসারে আসন বিন্যাস না করলে গণতন্ত্রের প্রকৃত প্রতিফলন হয় না।
আরও দেখুনঃ Desktop সংস্করণে লগইন বন্ধ! বিশ্বব্যাপী বিভ্রাট ফেসবুকে
ডিএমকে-র সমর্থন দেখিয়ে তাঁরা বলছেন, এটি ‘জাতীয় ঐক্যের’ প্রমাণ।লোকসভায় ৩৫৩ এবং রাজ্যসভায় ১৬০ সাংসদের সমর্থন এনডিএ-কে শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে। বিশেষ করে সাংবিধানিক সংশোধনী আনার ক্ষেত্রে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে মনে করছেন, এর ফলে কেন্দ্র একাধিক বড় সংস্কার আনতে পারবে।





