প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ডানকুনির কাউন্সিলার গ্রেপ্তার

ডানকুনির রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কাউন্সিলার সূর্য দে-কে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে। পুরোনো একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, এক ব্যক্তিকে মারধর করা এবং প্রাণনাশের…

dubrajpur-tmc-panchayat-member-arrested

ডানকুনির রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কাউন্সিলার সূর্য দে-কে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে। পুরোনো একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, এক ব্যক্তিকে মারধর করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে। যদিও ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর, তবে সেই সময় পরিস্থিতির ভয়ে অভিযোগকারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে প্রমাণ সংগ্রহ করে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযোগকারী ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় তাঁকে মারধর করা হয় এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সেই সময় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে ছিল বলে জানা যায়। অভিযোগকারীর দাবি, সূর্য দে-র প্রভাব ও ভয়ের কারণে তিনি তখন পুলিশের কাছে যেতে সাহস পাননি।

   

তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নেওয়া হয় এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তের পর অবশেষে ডানকুনি থানার পুলিশ সূর্য দে-কে গ্রেপ্তার করে।

এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে ডানকুনিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে। তাঁদের বক্তব্য, পুরোনো একটি ঘটনার ভিত্তিতে হঠাৎ করে গ্রেপ্তারি রাজনৈতিক চাপের ফল হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ দাবি করছে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তাই অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময়কাল ২০২১ সাল হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সেই সময় রাজ্যজুড়ে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছিল। অনেক জায়গায় অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়েছিল। ডানকুনির এই ঘটনাও সেই সময়কার উত্তেজনারই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূর্য দে-কে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আদালত তাঁকে পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে কিনা বা জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে কিনা, তা নিয়ে পরবর্তী আপডেটের অপেক্ষা রয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশাসন গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।