কলকাতা: রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল (DA arrears)। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশের এক সপ্তাহ পরেও বকেয়া ডিএ না মেটানোয় এবার আদালত অবমাননার নোটিস জারি করলেন মামলাকারীরা। এই নোটিস পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রকে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় কর্মচারীদের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে হবে এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া দ্রুত মেটাতে হবে। সেই প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়।
আরও দেখুন: ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে সবুজ-মেরুন ঝড়? বিরাট বার্তায় বাগান কোচ থেকে ‘দিমি-গড’
আদালত জানায়, আপাতত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ কবে এবং কীভাবে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশও দেয় আদালত। ওই কমিটিই ভবিষ্যতের রোডম্যাপ তৈরি করবে বলে জানানো হয়েছিল।
কিন্তু অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকারের তরফে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এর পরেই ক্ষুব্ধ ডিএ মামলাকারীরা আদালত অবমাননার নোটিস পাঠান মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে। তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে রাজ্য সরকার কর্মচারীদের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে।
এই ডিএ মামলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত বছরের ১৬ মে-ই সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল, চার সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হয় ২৭ জুন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করা সম্ভব নয় জানিয়ে রাজ্য সরকার আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। আদালতে তারা আরও ছয় মাস সময় প্রার্থনা করে।
এর পর একাধিক শুনানির পর চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আবারও সুপ্রিম কোর্ট একই নির্দেশ পুনর্ব্যক্ত করে। আদালত জানায়, আর দেরি করা যাবে না বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে। এই নির্দেশের পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও বাস্তবে এখনও টাকা না মেলায় হতাশা আরও বেড়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলির দাবি, বহু বছর ধরে তারা বকেয়া ডিএর জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও যদি টাকা না মেলে, তা হলে কর্মচারীদের আস্থা আরও নষ্ট হবে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে এখনও এই নোটিস নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ডিএ ইস্যুতে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় রাজ্য-সরকারি কর্মচারী সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখন দেখার, আদালত অবমাননার নোটিসের পর রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয় এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন কত দ্রুত সম্ভব হয়।




















