বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ইস্তফা দিচ্ছেন বোস

cv-ananda-bose-resignation-west-bengal-governor

দুয়ারে বাংলার নির্বাচন। আর এই আবহেই রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন সিভি আনন্দ বোস,এমনটাই জানা যাচ্ছে সূত্রের খবরে (CV Ananda Bose)। সাড়ে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করে এই সিদ্ধান্ত তার।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, নিজের পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করে বোস সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যথেষ্ট সময় রাজ্যপালের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি এবং এখন আর এই পদে থাকতে চান না। তাঁর কথায়, দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করার পর এবার অন্য কাজে মন দিতে চান।

   

আরও দেখুনঃ ওমানের তেল ট্যাঙ্কার আক্রমণের বলি মহারাষ্ট্রের অমৃতলাল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পদত্যাগের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ রাজ্যপালের পদ রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বাচনের আগে এই পদে পরিবর্তন হওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, সিভি আনন্দ বোস ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সময় থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। রাজ্য সরকার এবং রাজভবনের সম্পর্ক নিয়েও নানা সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও জনজীবন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকতে চান তিনি। জানা গেছে, তিনি শীঘ্রই দার্জিলিংয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

আগামী ৬ মার্চ দার্জিলিংয়ে শুরু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত দার্জিলিং হিল ফেস্টিভ্যাল। এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। উত্তরবঙ্গ এবং পাহাড়ি এলাকার শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার জন্য এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এই উৎসব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বোস। তিনি লিখেছেন, দার্জিলিং ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে। এই প্রথমবারের মতো এমন একটি উৎসবের আয়োজন হচ্ছে যেখানে পাহাড় এবং উত্তরবঙ্গের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, শিল্প এবং ঐতিহ্য একসঙ্গে উদযাপিত হবে।

এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হবে “রুটস অফ রিদম ” নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনী। সেখানে ভারতের অন্যতম প্রাচীন জাদুঘর Indian Museum-এর ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রদর্শিত হবে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতির এক অনন্য অভিজ্ঞতা লাভ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যপালের পদত্যাগের পরবর্তী সময়ে কে এই পদে দায়িত্ব নেবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কেন্দ্র সরকার শীঘ্রই নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।