কোলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরদার হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি। (candidate list)এই আবহেই দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল সিপিএম। প্রথম দফায় ১৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার পর এবার আরও ৩২টি আসনে প্রার্থী নাম ঘোষণা করে বাম শিবির নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলল।
বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তালিকা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে।
আরও দেখুনঃ মমতার রাষ্ট্রপতি শাসন পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য! তুলোধোনা বিজেপি সাংসদের
এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভবানীপুর কেন্দ্র। এখানে সিপিএম প্রার্থী করা হয়েছে শ্রীজীব বিশ্বাসকে। এই কেন্দ্রে মূল লড়াই হবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। ফলে এই কেন্দ্রটি এবারের নির্বাচনে অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নন্দীগ্রামেও প্রার্থী ঘোষণা করেছে সিপিএম। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে শান্তি গিরিকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, নন্দীগ্রাম আগেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, ফলে এখানে লড়াই যে তীব্র হবে তা বলাই বাহুল্য।
এছাড়াও বালিগঞ্জে শিল্পী আফরিন বেগম, টালিগঞ্জে পার্থপ্রতিম বিশ্বাস, মেটিয়াবুরুজে মনিরুল ইসলাম এবং ডায়মন্ড হারবারে সমরেন্দ্রনাথ নাইয়াকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রেও নতুন মুখ এবং অভিজ্ঞ নেতাদের মিশ্রণে তালিকা তৈরি করেছে দল।রানিনগরে জামাল হোসেন, জয়নগরে অপূর্ব প্রামাণিক, কৃষ্ণনগর উত্তরে অদ্বৈত বিশ্বাস, জলঙ্গিতে ইউনুস আলি সর্দার এবং বসিরহাটে আইনুল আরফিনকে প্রার্থী করা হয়েছে। এছাড়াও কুলতলি, নয়াগ্রাম, চাঁপদানি, পাঁশকুড়া পূর্ব, খেঁজুরি, গোপীবল্লভপুর এবং আসানসোল উত্তরসহ একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাম শিবির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের তালিকায় সিপিএম তরুণ ও অভিজ্ঞ দুই ধরনের প্রার্থীকেই গুরুত্ব দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন সংগঠনকে চাঙ্গা করতে চাইছে, অন্যদিকে ভোটারদের কাছে নতুন বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে। তবে শুধু প্রার্থী ঘোষণা নয়, এদিন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহম্মদ সেলিম।
তিনি SIR প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করে বলেন, “কেন এই প্রক্রিয়া চালু করা হল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।” তাঁর দাবি, এই বিষয়টি নিয়ে আদালতও নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চেয়েছে। সেলিমের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। বিরোধী দলগুলিও ইতিমধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।




















