হিন্দু ধর্মকে ‘গন্দা ধৰ্ম’ বলা মমতার নামে মামলা দায়ের আইনজীবীর

শিলিগুড়ি: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। (Mamata Banerjee)হিন্দুধর্ম ও সনাতন ধর্মকে ‘গন্দা ধৰ্ম’ বলার অভিযোগ তুলে এবার তাঁর বিরুদ্ধে শিলিগুড়ির…

complaint-against-mamata-banerjee-sanatan-dharma-row

শিলিগুড়ি: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। (Mamata Banerjee)হিন্দুধর্ম ও সনাতন ধর্মকে ‘গন্দা ধৰ্ম’ বলার অভিযোগ তুলে এবার তাঁর বিরুদ্ধে শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রিংকু চ্যাটার্জী সিং নামে এক আইনজীবী। অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অভিযোগকারী আইনজীবীর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সনাতন ধর্মকে “গন্দা ধর্ম” বলে অপমান করা হয়েছে এবং সেই মন্তব্যে কোটি কোটি হিন্দুর ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েই আইনজীবী সাইবার ক্রাইম থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।

Advertisements

আরও দেখুনঃ ভয়াবহ জয়সলমীর! খোদ সরকারি এলাকায় পচছে ৫০০ গোমাতার দেহ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় ২৫ মে ২০২৬ তারিখে অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলাটি রুজু হয়েছে BNS-এর ৩৫১(১), ৩৫২ এবং ৩৫৩(২) ধারায়। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে এমন বক্তব্য জনসমক্ষে করা হয়েছে এবং তা ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।

অভিযোগের সঙ্গে একটি লিখিত নথিও জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে অভিযোগকারীর বক্তব্য বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে। আইনজীবীর দাবি, তিনি একজন সাধারণ নাগরিক ও হিন্দু সমাজের সদস্য হিসেবে এই মন্তব্যে গভীরভাবে আহত হয়েছেন। তাই আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ দাবি করেছে, ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের আরও সংযত হওয়া উচিত। তাদের অভিযোগ, বারবার বিতর্কিত মন্তব্য করে সমাজে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম ও রাজনীতির সমীকরণ বরাবরই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। সেই কারণে এই ধরনের অভিযোগ সামনে এলে তা দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়। বিশেষ করে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে দেখা যায়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। তদন্তের মাধ্যমে পুলিশকে খতিয়ে দেখতে হবে, আদৌ কোনও মন্তব্য আইনত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না এবং সেই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট কী ছিল। তদন্তের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, আবার অন্য অংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। ফলে গোটা বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই দিক থেকেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।