বাংলার সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে তৃণমূলের দুর্দিনে বেসুরো বাবুল

Babul Supriyo স্বীকার করলেন বাংলায় ব্যবসায় সিন্ডিকেটের দাপট রয়েছে। দলের কিছু নেতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বাড়ালেন রাজনৈতিক বিতর্ক।

babul-supriyo-syndicate-raj-west-bengal-comment

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চলছে বলে স্বীকার করে নিলেন বাবুল সুপ্রিয়। (Babul Supriyo)তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করে নিজের দলের সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলায় ব্যবসা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দলের কিছু নেতা-কর্মী রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন।

এই মন্তব্য তৃণমূলের বর্তমান দুর্দিনে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে আরও সামনে এনে দিয়েছে।সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বা আলোচনায় বাবুল সুপ্রিয়ো খোলাখুলি বলেন, “বাংলায় ব্যবসা করতে গেলে অনেক বাধা আসে। সিন্ডিকেটের দাপট, কাটমানি, নানা ধরনের চাপ এসবের কারণে উদ্যোক্তারা ভয় পান।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দলের কয়েকজন নেতা এমন কাজ করছেন যা পুরো পশ্চিমবঙ্গের সুনাম নষ্ট করছে।

   

অনেক ব্যবসায়ী আগে থেকেই বলে আসছেন যে, নতুন কোনো প্রকল্প শুরু করতে গেলে স্থানীয় সিন্ডিকেটের অনুমতি ও ‘শেয়ার’ দিতে হয়, না হলে কাজ এগোয় না।বাবুল সুপ্রিয়র এই মন্তব্য রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তৃণমূলের একজন রাজ্যসভা সাংসদ নিজেই যখন সরকারের বিরুদ্ধে এমন কথা বলেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে দলের ভিতরে কি অসন্তোষ বাড়ছে?

আরও দেখুনঃ যুবভারতী ইস্যুতে মেসি প্রসঙ্গে তৃণমূলকে তুলোধোনা মোদীর

বাবুল সুপ্রিয় একসময় বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই সোচ্চার সমালোচনা অনেককে অবাক করেছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “যিনি দলের সাংসদ, তিনিই যদি স্বীকার করেন যে ব্যবসা করা কঠিন, তাহলে সাধারণ উদ্যোক্তাদের অবস্থা কেমন হবে বুঝতেই পারছেন। সিন্ডিকেটের দাপটে ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীই ক্ষতিগ্রস্ত।”

পশ্চিমবঙ্গে সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে বহুদিন ধরে অভিযোগ চলছে। নির্মাণকাজ, পরিবহন, বাজার ব্যবস্থাপনা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ। ফলে শিল্পপতিরা রাজ্যে বিনিয়োগ করতে দ্বিধা করেন। বাবুল সুপ্রিয়র মন্তব্যে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেন, কিছু নেতা-কর্মীর কারণে পুরো দল ও রাজ্যের ইমেজ খারাপ হচ্ছে।

এতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলের কয়েকজন নেতা এই মন্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত’ বলে উড়িয়ে দিতে চাইলেও, সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, তৃণমূলের নিজের সাংসদই যখন সিন্ডিকেট রাজ স্বীকার করছেন, তাহলে প্রমাণ হয় যে ১৫ বছরের শাসনে বাংলায় শিল্প-বাণিজ্যের উন্নয়ন হয়নি, বরং দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের দাপট বেড়েছে।