
কলকাতা: বিশেষ নির্বাচনী দায়িত্ব নিয়ে বাংলায় এসেছেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এনকাউন্টার স্পেসালিস্ট অজয় পাল শর্মা। (Ajay Pal Sharma)দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিশেষ অবসার্ভার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই তিনি পৌঁছে গেলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে। অভিযোগ জাহাঙ্গীর সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছিলেন এবং প্রভাবিত করছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।
— Tajinder Bagga (@TajinderBagga) April 27, 2026
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিখ্যাত এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট ও ‘সিংহম’ খ্যাত আইপিএস অফিসার আজয় পাল শর্মা বাংলায় পা রেখেই সরাসরি চলে গেলেন ফলতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম বড় পদক্ষেপ।আজয় পাল শর্মা ফলতায় পৌঁছেই জাহাঙ্গীর খানের বাসভবনে হাজির হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, তিনি স্থানীয় ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন এবং প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
আরও দেখুনঃ দিল্লি ম্যাচের আগে চিন্তায় আরসিবি ! চোটের জন্য ম্যাচের বাইরে সল্ট – রাসিখ !
বাইক বাহিনী নিয়ে এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া, ভোট না দিলে ‘দেখে নেওয়া’র কথা বলা এমন একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল নির্বাচন কমিশনের কাছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আজয় পাল শর্মা সরাসরি জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আজয় পাল শর্মা জাহাঙ্গীর খানকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জনগণকে ভয় দেখানোর সাহস দেখাবেন না। আমি আপনাকে সতর্ক করছি। যদি কোনো অভিযোগ আসে, তাহলে কাউকে ছাড়ব না চাই সে যত বড় প্রার্থীই হোক।”
তিনি আরও বলেন, “ভোটারদের উপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হলে বা ভয় দেখানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অমান্য করলে কারও রেহাই নেই।”যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর। এই ঘটনার পর ফলতা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় গুন্ডারাজ চলছে। এবার সত্যিকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে।
জাহাঙ্গীরের মতো লোকেদের এখন সতর্ক হতে হবে।”আজয় পাল শর্মা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকার দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর মূল কাজ হলো স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কার্যকলাপ নজরদারি করা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি ইতিমধ্যেই স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

