আসানসোল: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রামে ভোট গণনার দিন লোডশেডিং নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ আবারও সামনে এল। এবার একই ধরনের আশঙ্কার কথা শোনা গেল আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের(Agnimitra Paul) বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul) মুখে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তিনি লোডশেডিং নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন এবং এর সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অগ্নিমিত্রা পালের(Agnimitra Paul) দাবি, ভোট চলাকালীন পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং ঘটানো হতে পারে, যার ফলে বুথে থাকা ওয়েবকাস্টিং পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এতে করে ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা ব্যাহত হতে পারে এবং পুরনো পদ্ধতিতে রিগিং করার চেষ্টা করা হতে পারে। তাঁর অভিযোগের তীর তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে, যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত এলআইসি অফিসের ২৪৩ নম্বর বুথে ভোট দেন। সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, “গতকাল রাতে আসানসোলে লোডশেডিং হয়েছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক। আজ ভোটের দিন, তাই আশঙ্কা করছি যে একইভাবে আজও লোডশেডিং ঘটিয়ে ওয়েবকাস্টিং বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি ওয়েবকাস্টিং বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বুথের ভিতরে কী হচ্ছে, তা আর বাইরে থেকে দেখা সম্ভব হবে না। এতে করে স্বচ্ছতা নষ্ট হতে পারে। পুরনো দিনের মতো রিগিংয়ের চেষ্টা হতে পারে, সেই কারণেই আমরা আগেভাগেই সতর্ক করছি।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালের এই অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রামে ভোট গণনার দিন লোডশেডিং নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছিল। সেই ঘটনার উল্লেখ করেই তিনি বলেন, “আগেও এমন হয়েছে। তাই এবারও আমরা সতর্ক। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই আমরা চাই।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনও সরাসরি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের সময় এই ধরনের অভিযোগ প্রায়শই সামনে আসে এবং তা নিয়ে পাল্টা-পাল্টি রাজনৈতিক চাপানউতোর চলতেই থাকে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন বরাবরই দাবি করে এসেছে যে, ভোট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিং, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং কড়া নজরদারির মাধ্যমে যাতে কোনও অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে অগ্নিমিত্রা পালের এই অভিযোগ ভোটের দিন নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ কতটা শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




















